এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে চীন এবং পাকিস্তানের নিরাপত্তা স্বার্থ ক্রমেই একই সূত্রে গেঁথে যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ মেরু পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক হয়ে পড়েছে পারষ্পরিক লেনদেনের টেকনিক্যাল রিলেশনে।

অন্যদিকে ওয়াশিংটন সর্বোতভাবে ভারতের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক নির্মাণে এগিয়ে যাচ্ছে। একদিকে আমেরিকান সামরিক জাহাজ ও বিমান ভারতীয় ঘাঁটিসমূহ ব্যবহারের অনুমতি পাচ্ছে। অন্য দিকে পাকিস্তানের পানি সীমায় বেইজিংয়ের নৌ ঘাটি ও অন্যান্য সামরিক উপস্থিতিকে অনুমোদন করছে ইসলামাবাদ।

ভারতের সাথে যুক্তরাষ্ট্র যত ঘনিষ্ঠ হচ্ছে পাকিস্তানও ততটাই একাত্ম হচ্ছে চীনের সাথে। তারই সর্বশেষ উদারহণ হলো এই সপ্তাহের শুরুর দিকে ইসলামাবাদে পাকিস্তান দিবসের কুচকাওয়াজে প্রথমবারের মতো চীনা সেনাদের অংশগ্রহণ ।

কিছু বিশেষজ্ঞ এটাকে দু’ দেশের ঘনিষ্ঠ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি চিহ্ন ছিল বলে মনে করেন । আবার কেউ কেউ এটাকে দেখেন বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক নেতার মতো ভূমিকা হিসাবে।

গত বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে পাকিস্তান দিবসের কুচকাওয়াজে ৯০ জন চীনা সেনা সার্ভিসম্যান অংশ নেন। সেখানে পাকিস্তান দূর পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, আধুনিক ট্যাংক এবং যুদ্ধ বিমান প্রদর্শন করে। এই কুচকাওয়াজকে দক্ষিণ এশিয়ার উত্তেজনাকর পরিবেশের কারণে কিছুটা অন্যভাবে মূল্যায়ন করছেন সামরিক পর্যবেক্ষকরা।

রুশ গণমাধ্যম স্পুটনিক এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে, চীনা সামরিক বিশেষজ্ঞ সং শিয়াওজান এ সামরিক প্যারেডকে “দুই রাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি ব্যারোমিটার” হিসাবে বর্ণনা করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, “চীন ও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মধ্যে এটি একটি স্বাভাবিক বিনিময়। বাস্তবে, বেইজিং ও ইসলামাবাদ কৌশলগত অংশীদার এবং আমরা এমনও বলতে পারি কৌশলগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। উভয় রাষ্ট্র শুধু সামরিক মিত্রই নয়, তারা যৌথ মহড়াসহ সব ধরনের স্বাভাবিক সামরিক সম্পর্কের বিকাশ ঘটাচ্ছে।”

মস্কো-ভিত্তিক ইনস্টিটিউট অব ওয়ার্ল্ড ইকোনমি এন্ড ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্স এর বিশেষজ্ঞ পিটার টোপিচখানভ এর বক্তব্যে ইসলামাবাদ-বেইজংয়ের সম্পর্কের ব্যাপারে শিয়াওজানের কথাই প্রতিধ্বনিত হয়েছে।

টোপিচখানভ ইসলামাবাদ প্যারেডের উল্লেখ করে বলেন, “কোন সন্দেহ নেই যে দুই দেশ তাদের মধ্যে সহযোগিতাকে আরো বৃদ্ধি করে একে অপরের কাছাকাছি হতে চায়”।

তিনি আরো বলেন, “পাকিস্তান তার নিকট প্রতিবেশী ভারতের কাছে উপরন্তু এই বার্তা দিতে চায় যে, চীন দৃঢ়ভাবে ইসলামাবাদের দিকেই রয়েছে আর পাকিস্তানও বেইজিংকে সর্বোতভাবে সমর্থন করে যাবে।”

অন্যদিকে রাশিয়ার সামরিক বিশেষজ্ঞ ও আর্সেনাল অটেচেষ্টভা’র প্রধান সম্পাদক ভিক্টর মুরাখোভোস্কি রাশিয়ান অনলাইন সংবাদপত্র ভিজগ্লাদকে বলেন, ‘আসলে চলমান পরিস্থিতিতে ভারতকে মোকাবেলা এবং আঞ্চলিক প্রভাব বজায় রাখার জন্য বেইজিং-ইসলামাবাদ সুদৃঢ় সামরিক সম্পর্ক ও পারষ্পরিক সহযোগিতা চীন-পাকিস্তান দু’দেশেরই প্রয়োজন।’

মুরাখোভোস্কি বলেন, “ইসলামাবাদের সঙ্গে বেইজিং এর জোট এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের নেতৃস্থানীয় ভূমিকাকে সংহতকরণে অবদান রাখছে। উপরন্তু, পাকিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে চিড় ধরেছে তা মধ্য এশিয়ায় চীনকে তার প্রভাব বিস্তৃত করতে সাহায্য করছে।”

দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এখন ভারতের উপর ভর করেই তার প্রভাব বিস্তারের গুটি সাজাচ্ছে। সাথে রাখতে চাইছে জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশকে। অন্যদিকে চীন-পাকিস্তান অক্ষে অনেকখানি ঝুঁকে রয়েছে রাশিয়া-ইরান।(southasianmonitor)

এমবি