চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আজ (সোমবার) শ্রীলংকা সফর শুরু করেছেন। ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম দেশটি সফর করছেন কোনো চীনা প্রেসিডেন্ট। আগামীকাল ১৮০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মীয়মাণ একটি বন্দরনগরী উদ্বোধন করবেন প্রেসিডেন্ট শি। এ ছাড়া, শ্রীলংকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেবেন তিনি।

ভারত মহাসাগরে চীনের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক এ নৌপথের মাঝামাঝি এলাকায় দ্বীপদেশ শ্রীলংকার অবস্থান। ৫৭ বছর আগে শ্রীলংকার সঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে চীন। বর্তমানে দেশটিতে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী হয়ে উঠেছে চীন। ২০১৩ সালে চীন-শ্রীলংকা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৩৬২ কোটি ডলার স্পর্শ করেছে। দেশটিতে একটি গভীর সমুদ্র বন্দর ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণে অর্থায়ন করছে চীন।

এদিকে, শ্রীলংকার রাষ্ট্রীয় দৈনিক ডেইলি নিউজে আজ প্রেসিডেন্ট শি'র একটি চিঠি প্রকাশিত হয়েছে। এ চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, শ্রীলংকার সঙ্গে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল, ব্যবসা, অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা, পর্যটনসহ অন্যান্য এলাকায় বিনিময় ও সহযোগিতা বাড়াতে চায় চীন। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নিরাপত্তা নয় বরং বাণিজ্যের ওপর ভিত্তি করে জোরদার করা হচ্ছে বলে এর আগে কলোম্বোর কর্মকর্তারা একাধিকবার নিশ্চিত করেছেন।

প্রেসিডেন্ট শি’এর সফরের আগে শ্রীলংকার অর্থমন্ত্রী বাসিল রাজাপাকসে বলেছেন, বেইজিং-এর সঙ্গে কলম্বোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে নয়াদিল্লির আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পর্যটনকে জোরদার করার জন্য বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে কলম্বো। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চাইছে ভারতও এবং তাতে দোষের কিছু নেই।

শ্রীলংকার পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরনগরী ত্রিনকোমালিতে চীনের সহযোগিতায় সামরিক বিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করতে চেয়েছিল কলম্বো। কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যায়ে ভারত এ বিষয়ে আপত্তি জানানোর পর এ পরিকল্পনা কার্যত আর এগোয় নি। ত্রিনকোমালি হলো প্রাকৃতিক গভীর সমুদ্র বন্দর এবং দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় এ বন্দর ব্যবহার করা হয়েছে। এ বন্দরটিকে এখনো কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে মনে করা হয়।

ঐতিহাসিকভাবে শ্রীলংকার ওপর ভারতের প্রভাব ছিলো, কিন্তু প্রেসিডেন্ট শি বলেছেন, ছোট এই দ্বীপদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, শ্রীলংকার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো দেশের নাক গলানোর কঠোর বিরোধিতা করে চীন। এ ছাড়া, তামিল টাইগার বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘ তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছিল। শ্রীলংকার সরকারের বিরুদ্ধে এ তদন্তকে সমর্থন করেছিল ভারত কিন্তু এক্ষেত্রে কলম্বোর অবস্থানকে পুরোপুরি সমর্থন করেছে চীন।

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, টিআই