মাফিয়া চক্রের দুনিয়া কাঁপানো ডন। কে না জানে তাদের কথা! একজন দাউদ ইব্রাহিম। পৃথিবীর এমন কোনো দেশ নেই যেখানে তার নামটি পৌঁছায়নি। তাকে নিয়ে রহস্যেরও অন্ত নেই। প্রায়ই গণমাধ্যমের চমক হয়ে ওঠেন তিনি এবং আর একজন হলেন ছোটা রাজন (৫৯)। আসল নাম রাজেন্দ্র সদাশিভ নিখালজি। দাউদ ইব্রাহিমের এক নম্বর শত্রু । ছোটা রাজনের বিস্তার এশিয়াজুড়ে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে তার বিচরণ বেশি। তিনি এখন মালয়েশিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ভীষণ অসুস্থ।
তাদের নাম শুনে কেঁপে উঠে মাফিয়া চক্র।  কিন্তু একে-অপরের  শত্রু ভাবে। সুযোগ পেলেই একজন অপরজনের প্রাণ নিতে এতটুকু বিব্রত হবেন না।
ছোটা রাজন হিন্দু। দাউদ ইব্রাহিম মুসলিম। দুইজনের জন্মই ভারতের মাটিতে। কিন্তু স্বদেশী এই দুই ডন এখন দেশ ছাড়া। ভারতীয় রাজনীতিকরা মাঝে মধ্যে বলে থাকেন, দাউদ ইব্রাহিম পাকিস্তানে আছেন। কিন্তু সত্যিই তিনি কোথায় আছেন, তা পরিষ্কার তথ্য-প্রমাণ দিয়ে কেউ বলতে পারেননি।
এদিকে ছোটা রাজন গণমাধ্যমে খুব বেশি একটা আসেন না। তবে দাউদকে নিজের প্রধান শত্রু ঘোষণা করার পর থেকে ছোটা রাজনকে নিয়ে উৎসুক মানুষের কৌতূহল রয়েছে।
১৯৯৩ সালে মুম্বাই বোমা হামলার পর ছোটা রাজন পণ করেন, দাউদকে হত্যা না করে তিনি মরবেন না। কিন্তু দাউদকে হত্যা করতে পারেননি তিনি। উল্টো দাউদবাহিনীর আক্রমণে গুলিবিদ্ধ হয়ে তার কিডনি প্রায় অকেজো হয়ে গেছে। সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ২০০১ সালে দাউদ বাহিনী ছোটা রাজনের ওপর হামলা চালায়। এতে তার কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বলা হয়ে থাকে, ১৯৯১ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংস এবং ১৯৯২ সালে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় মুসলমানদের ব্যাপক প্রাণহানির পরে প্রতিশোধ হিসেবে ১৯৯৩ সালে মুম্বাই বোমা হামলা চালান দাউদ ও তার সহযোগীরা। এ নিয়েই দুই ডনের মধ্যে লড়াই।
কিন্তু মালয়েশিয়ার হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও নাকি ছোটা রাজন বলছেন, দাউদকে হত্যা না করে তিনি মরবেন না। মুম্বাইয়ের তিলক নগরের ছোটা রাজনের এক বন্ধুর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। তবে তার অসুস্থতার খবর নিশ্চিত করেছে মুম্বাই পুলিশ।
[b]ঢাকা, ২৩ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসএইচ[/b]