ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বিতর্কিত তেলেঙ্গানা বিল পেশ করতে গিয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে তা চিহ্নিত হয়ে থাকবে এক কালো দিন হিসেবে৷ মরিচের গুঁড়ো ছিটানো, ভাঙচুর, ঘুসোঘুসি, হাতাহাতি কী নয়?
বিতর্কিত তেলেঙ্গানা বিল পেশ করতে গিয়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে রীতিমত খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায় তেলেঙ্গানাপন্থী এবং সীমান্দ্রপন্থীদের মধ্যে৷ দীর্ঘ দ্বিধাদ্বন্দ্বের পর বৃহস্পতিবার লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল শিন্ডে বিল পেশ করতেই শুরু হয় হৈ হট্টগোল ও হুলুস্থুল কাণ্ড৷ তেড়ে যান তেলেঙ্গানা-বিরোধী সাংসদরা৷ ছিঁড়ে ফেলেন অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য পুনর্গঠন বিল সংক্রান্ত কাগজপত্র৷ ভেঙে ফেলেন টেবিলের মাইক্রোফোন, কাঁচের গ্লাস৷ প্রতি আক্রমণ চালায় তেলেঙ্গানা সমর্থক সাংসদরা৷ শুরু হয় মারপিট, হাতাহাতি, ঘুসোঘুসি৷ তেলেঙ্গানা বিরোধী তেলেগু পার্টির এক সংসদ সদস্য মরিচের গুঁড়ো স্প্রে করলে সবাই নাকে মুখে রুমাল চাপা দিয়ে কাশতে শুরু করেন৷ এমনকি
জনৈক টিডিপি সংসদ সদস্য ছুরিও বার করেন বলে অভিযোগ৷[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201402/1392350522.jpg[/img]
মরিচের গুঁড়া ছিটানোর পর এক সংসদ সদস্যের দুরবস্থা
এরপর মার্শালদের ডেকে যুদ্ধং দেহি সাংসদদের জোর করে বার কোরে দেয়া হয়৷ বাইরে বের করে দেয়ার পরও অবশ্য হাতাহাতি থেমে থাকেনি৷ সংসদ চত্বরের বাইরে দুই পক্ষের মধ্যে আবারো শুরু হয় মারপিট৷ এ সময় আহত হন ৪ সংদ সদস্য। এ ঘটনায় ১৭জন সংসদ সদস্যকে সাসপেন্ড করা হয়৷ আর সংসদের অধিবেশন স্থগিত রাখা হয় ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত৷
সংসদ সদস্যদের এই আচরণের নিন্দা করেছে সব দল৷ জনপ্রতিনিধিদের ধিক্কার জানিয়েছে গোটা নাগরিক সমাজ৷ সংসদের বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে না পারার জন্য কংগ্রেসকে দায়ী করেছে বিজেপি৷ তৃণমূল কংগ্রেসের মতে, এই বিল অসাংবিধানিক৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিন্ডে বলেছেন, বিল পেশ করার পর এখন তা সংসদের এক্তিয়ারে৷ স্পিকার যদি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারেন, তাহলে বিলের ওপর আলোচনা হবে৷ স্পিকার মনে করলে কণ্ঠভোটেও তা পাশ করাতে পারেন৷ লোকসভায় তা পাশ হলে উচ্চকক্ষ রাজ্যসভাতে পেশ করা হবে৷ তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, তেলেঙ্গানা বিল পাশ করানো সহজ হবে না৷ মহিলা সংরক্ষণ বিলের মতোই এর দশা হবে৷ প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে মহিলা সংরক্ষণ বিল রাজ্যসভাতে পাশ হবার পর ঝুলে আছে লোকসভাতে৷
তেলেঙ্গানা বিল পাশ নিয়ে কংগ্রেস কেন এত মরিয়া? কতটা লাভ হবে কংগ্রেসের? রাজনৈতিক বিচক্ষণতার অভাব এবং সস্তা রাজনৈতিক চমক বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক৷ একটা সমৃদ্ধ রাজ্যকে ভাঙলে তা ইতিবাচক হতে পারেনা৷ কেউ কেউ আবার মনে করেন, ২০০৯ সালের নির্বাচনে দ্বিতীয় ইউপিএ সরকার গঠনে অন্ধ্রপ্রদেশের ভূমিকা অনস্বীকার্য৷ রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস পেয়েছে ৩৭টি আসন৷ এখন অন্ধ্রপ্রদেশকে ভেঙে সীমান্ধ্র এবং তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠিত হলে সীমান্ধ্রের সিংহভাগ যাবে জগন মোহন রেড্ডির পার্টির ঝুলিতে৷ তাই তেলেঙ্গানাই এখন কংগ্রেসের পাখির চোখ৷ কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের মতে, বিলটি নির্বাচনের পরে নতুন সরকারের ওপর ছেড়ে দেয়াই শ্রেয়৷
[b]ঢাকা, ১৪ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডিডটকম) // ইএইচ[/b]
আন্তর্জাতিক
ভারতের সংসদে হাতাহাতি
বিতর্কিত তেলেঙ্গানা বিল পেশ করতে গিয়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে রীতিমত খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায় তেলেঙ্গানাপন্থী এবং সীমান্দ্রপন্থীদের মধ্যে৷ দীর্ঘ দ্বিধাদ্বন্দ্বের পর বৃহস্পতিবার লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল শিন্ডে বিল পেশ করতেই শুরু হয় হৈ হট্টগোল ও হুলুস্থুল কাণ্ড৷ তেড়ে যান তেলেঙ্গানা-বিরোধী সাংসদরা৷ ছিঁড়ে ফেলেন অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য পুনর্গঠন বিল সংক্রান্ত কাগজপত্র৷ ভেঙে ফেলেন টেবিলের মাইক্রোফোন, কাঁচের গ্লাস৷





