ভারত সরকার ঘোষণা করেছে, নব্বইয়ের দশকে কাশ্মীর থেকে পালানো ৬০ হাজারেরও বেশি হিন্দুকে সেখানে ফিরিয়ে নিয়ে পুনর্বাসনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

সোমবার ভারতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি যে ভাষণ দিয়েছেন, তাতেই সরকার তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে স্বাধীনতাকামী আন্দোলন সহিংস রূপ নেওয়ার পর লক্ষাধিক কাশ্মীরি হিন্দু, যারা স্থানীয়ভাবে কাশ্মীরি পণ্ডিত নামে পরিচিত, উপত্যকা ছেড়ে চলে আসতে হয়েছিল।

ঠিক কোন পটভূমিতে তাদের শত শত বছরের বাসভূমি ছেড়ে আসতে হয়, তা নিয়ে অবশ্য নানা বিতর্ক আছে।

নরেন্দ্র মোদীর সরকার রাষ্ট্রপতির ভাষণের মাধ্যমে আজ সোমবার বলেছে, সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় জম্মু ও কাশ্মীরের গুরুত্ব অপরিসীম এবং বিশেষ করে সেখানকার জনসংখ্যার যে অংশটা বিতাড়িত হয়েছে তাদের জন্য সেখানে আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে।

গত আড়াই দশক ধরে এই কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বহু পরিবার জম্মু, দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে উদ্বাস্তুর জীবন যাপন করছে। জম্মুর শরণার্থী শিবিরগুলোতেই সবচেয়ে বেশি কাশ্মীরি পণ্ডিত আছে।

ভারতের বর্তমান সরকার এখন বলছে, কাশ্মীরি পণ্ডিতরা যাতে আবার উপত্যকায় ফিরে যেতে পারে সে জন্য সেখানে তাদের সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করা হবে, আর্থিক সুযোগ সৃষ্টি করা হবে এবং নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

কেন্দ্রের বিজেপি-শাসিত সরকার এমন একটা সময় এই ঘোষণা করল যখন জম্মু ও কাশ্মীরে পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি বা পিডিপি-র সঙ্গে জোট সরকার গড়ার জন্য বিজেপির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

গত ডিসেম্বরে ওই রাজ্যের নির্বাচনে হিন্দু-অধ্যুষিত জম্মু অঞ্চলে বিজেপি ভাল ফল করলেও মুসলিম-প্রধান কাশ্মীরে পিডিপি-ই প্রধান শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, পিডিপি-র সঙ্গে জোট গড়া হলে ওই রাজ্যে বিজেপি-র হিন্দু ভোটব্যাঙ্কে যাতে কোনও প্রভাব না-পড়ে সেই চেষ্টাতেই বিজেপি সম্ভবত বিজেপি কাশ্মীরি পণ্ডিতদের পুনর্বাসনের কথা ঘোষণা করল।

তবে সরকারি চাকরি বা আর্থিক সহায়তা মিললেও কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মধ্যে কতজন শ্রীনগর-সহ উপত্যকায় ফিরে যেতে শেষ পর্যন্ত রাজি হবেন, তা নিয়ে সন্দেহ আছেই। সূত্র: বিবিসি বাংলা

এমএ