ভারতের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর গৈরিকীকরণ বাড়াচ্ছে আরএসএস শীর্ষ নিউজ ডেস্ক : কেন্দ্রে ক্ষমতায় বিজেপি। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির গৈরিকীকরণের প্রক্রিয়াকে জোরদার করতে সক্রিয়তা বাড়াচ্ছে আরএসএস।

একদিকে কট্টর হিন্দুত্ববাদী এই সংগঠনটি উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর মতাদর্শগত নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার কথা বলছে খোলাখুলি, আরেকদিকে এই প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধিকার খর্ব করার লক্ষ্যে গৃহীত কোনো সরকারি পদক্ষেপের বিরোধীদের ‘হিন্দু-বিরোধী’ বলে অভিহিত করছে।

আরএসএস তার মুখপত্র অর্গানাইজারকে হাতিয়ার করে এই প্রচার চালাচ্ছে।

ইতিমধ্যে পুনের চলচ্চিত্র শিক্ষার প্রতিষ্ঠান এফটিআইআই-র চেয়ারম্যান পদে টিভি ধারাবাহিক মহাভারতের যুধিষ্ঠির চরিত্রের অভিনেতা গজেন্দ্র চৌহানের নিয়োগকে সরাসরি সমর্থন জানিয়ে একটি নিবন্ধন প্রকাশ করেছে অর্গানাইজার। তাতে ওই নিয়োগের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের সরাসরি ‘হিন্দু-বিরোধী’ বলে চিহ্নিত করেছে আরএসএস।

এবার অর্গানাইজারে প্রকাশিত আরেকটি নিবন্ধে আই আই টি-র মতো প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি ‘ভারত-বিরোধী’ ও ‘হিন্দু-বিরোধী’ কার্যকলাপের জায়গা হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করল আরএসএস। নিবন্ধে সুনির্দিষ্টভাবে আক্রমণ করা হয়েছে আইআইটিগুলির বোর্ড অব গভর্নরস, ডিরেক্টর এবং অধ্যাপক-অধ্যাপিকাদের। আরএসএস-র বক্তব্য, এইসব পদে এমন অনেকে রয়েছেন, আইআইটিগুলিতে ‘ভারত-বিরোধী’ ও ‘হিন্দু-বিরোধী’ কার্যকলাপের জন্য যাদের দায়ী করে সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

অর্গানাইজারের ওই নিবন্ধে আরো বলা হয়েছে, বোর্ড অব গভর্নরস এবং ডিরেক্টরদের মাধ্যমে কংগ্রেস ও বামপন্থীরা এখনও এইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মতাদর্শগত নিয়ন্ত্রক। নিবন্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে মুম্বাই আইআইটি-র বোর্ড অব গভর্নরসের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী অনিল কাকোদকর এবং আহমেদাবাদ আইআইএম-র চেয়ারম্যান এ এম নায়েককে।

কাকোদকর সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি আইআইটিগুলির ডিরেক্টর নিয়োগকে হালকাভাবে নিচ্ছেন। ইরানির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলার জন্যই আরএসএস তথা অর্গানাইজার বিশিষ্ট এই বিজ্ঞানীকে একহাত নিয়েছে। নায়েক আরএসএস-র বিষ নজরে পড়েছেন আইআইএম এবং আইআইটি-র মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির পরিচালন ব্যবস্থা কুক্ষিগত করার লক্ষ্যে মোদি সরকারের প্রস্তাবিত বিলের বিরুদ্ধে মুখ খুলে।

ওই বিল আইনে পরিণত হলে আইআইএম এবং আইআইটি-র মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধিকার বলে আর কিছু থাকবে না, তাদের পরিচালন ব্যবস্থার ওপর একচ্ছত্র অধিকার কায়েম করবে সরকার। নায়েক একা নন, উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলির আরো বেশ কয়েকজন প্রাক্তন শীর্ষ পদাধিকারী প্রস্তাবিত ওই বিলের জোরালো বিরোধিতা করেছেন।

অর্গানাইজার আরো বলেছে, ইউপিএ সরকারের আমলে ‘পবিত্র শহর হরিদ্বার’-এ অবস্থিত আইআইটি রুরকিতে আমিষ খাবার চালু করা হয়েছে এবং রৌরকেলার এনআইটি-তে কমিউনিটি হলে পড়ুয়াদের ‘পুজো’র আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এসবই ‘হিন্দু-বিরোধী’ কার্যকলাপ। নিবন্ধে ফের এফটিআইআই-র চেয়ারম্যান পদে গজেন্দ্রর নিয়োগকে জোরালো ভাষায় সমর্থন জানিয়ে বলা হয়েছে, গজেন্দ্রকে তার মতাদর্শের জন্যই আক্রমণ করা হচ্ছে। তার যোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্নই উঠতে পারে না বলেও কার্যত দাবি করেছে অর্গানাইজার।

এদিকে শিক্ষায় গৈরিকীকরণের অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক যখন ক্রমশ বাড়ছে, তখন জানা গেলো, গত জানুয়ারি মাসে দিল্লি আইআইটি-তে এক বৈঠকে বোর্ড অব গভর্নরসের চেয়ারম্যান বিজয় ভাটকরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রামদেব এবং আরএসএস-র সংগঠন বনবাসী কল্যাণ আশ্রমের কয়েকজন সদস্য। রীতিমতো তাদের ওই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল দিল্লি আই আই টি-র তরফে। উন্নত ভারত অভিযান কর্মসূচি নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়। বৈঠকে আলোচনা হয় গ্রামীণ উন্নয়নে গরুর অবদান এবং তাতে আইআইটি-র মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে।

ইআর