ইয়েমেনের বিবাদমান দুপক্ষই অস্ত্রবিরতি চুক্তিটি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। রবিবার স্থানীয় সময় রাত নয়টা থেকে ওই  চুক্তি বাস্তবায়িত  হয়েছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।

চলমান গৃহযুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগেই এই অস্ত্রবিরতি কার্যকর হল। আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে কুয়েত শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ইয়েমেনের তাইজ ও হাজ্জহ অঞ্চলে সর্বপ্রথম ওই অস্ত্রবিরতি বাস্তবায়িত হওয়ার কথা রয়েছে। এ সম্পর্কে ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মালিক আল মেখলাফি নিউজ চ্যানেল আল আরাবিয়াকে বলেছেন,‘এই চুক্তি শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তবায়িত হবে আমরা তা জানি না। কয়েক ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরই আমরা এটি মূল্যায়ন করতে পারব।’

তবে কেউ যদি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এটি লঙ্ঘণ করে তবে ইয়েমেন সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন।

ইয়েমেন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে লড়াইরত ইরানের মদদপুষ্ট হুথি বিদ্রোহীরাও এই চুক্তি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যদিও চুক্তিটি বাস্তবায়িত হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা পরেই তায়িজ এলাকা থেকে গুলির শব্দ শোনা গেছে। একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে আল আরাবিয়া জানিয়েছে, চুক্তির শর্ত লঙ্ঘণ করে ওই এলাকায় শেল নিক্ষেপ করছে হুথি বিদ্রোহীরা।

এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট, যারা ইয়েমেন সরকারের পক্ষ নিয়ে হুতি বিদ্রোহীদের  বিরুদ্ধে লড়াই করছে, তারাও এই অস্ত্রবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে।

চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে ইয়েমেনে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইসমাইল ওউলদ চেইখ আহমেদ বলেছেন,‘এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি।’ ইয়েমেনে প্রাণহানি বন্ধে এটি কার্যকর হবে বলেও তিনি আশা করেছেন।

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে গতবছরের ২৬ মার্চ থেকে সৌদি জোটের হামলা শুরু হওয়ার পর দেশটিতে এটি চতুর্থ দফা অস্ত্রবিরতির প্রচেষ্টা। এর আগে আরো তিনবার অস্ত্রবিরতির উদ্যোগ নেয়া হলেও সরকার ও বিদ্রোহীরা যুদ্ধ বন্ধে কোনো মীমাংসায় পৌঁছুতে না পারায় সেগুলো ব্যর্থ হয়ে যায়। এবার অস্ত্রবিরতি কতটা কার্যকর হবে তা নির্ভর করছে আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া কুয়েত আলোচনার ওপর।

এদিকে, এই অস্ত্রবিরতি চুক্তিটি বাস্তবায়িত হওয়ার ফলে ইয়েমেনের ৬টি প্রদেশে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে জানা গেছে।

ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধের  শুরু ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে। এ ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ঘরবাড়ি ছেড়ে উদ্বাস্তু হয়েছে আরো দুই লাখ মানুষ।সূত্র: আলজাজিরা

এআই