অভিযোগ করেছেন তিনি ঠিকই। কিন্তু তা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় ১৫ মাসের জন্য জেলে জেতে হলো এক ছাত্রীকে।
নাতাশা সিং দাবি করেন, তার সাবেক বয়ফ্রেন্ড আকাশ এন্ড্রু তাকে মারধোর করেন। এরপর তার গলা টিপে ধরেন।
২২ বছর বয়স্কা নাতাশা উত্তমসিং সারা জীবনের জন্য এন্ড্রুকে কাছে পেতে চেয়েছিলেন। কোনো কারণে যদি সম্পর্ক ভেঙ্গে যায় তাহলে তার জীবন নষ্ট করে দেয়ারও হুমকি দেন তিনি।
একদিন সত্যি সত্যি ভেঙ্গে যায় তাদের প্রেমের সম্পর্ক। নাতাশা চলে যান পুলিশের কাছে। অভিযোগ করেন তাকে মারধোর করার। তাকে হত্যারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন।
পুলিশ তদন্ত করতে নেমে দেখে যে, এন্ড্রুর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে নাতাশা নিজেই নিজের মোবাইল ফোনে কয়েকটি মেসেজ পাঠান। মেসেজে বলা হয়, তাকে ধর্ষণ করেছেন এন্ড্রু।
পুলিশের কাছে হামলার ঘটনাটি সত্য বলে প্রমাণ করা জন্য মেডিক্যাল নোটও পাল্টে ফেলেন নাতাশা। পরিবর্তন করেন যোগাযোগ নম্বরও। এতে দেখা যায়, আকাশ তাকে বার বার ফোন করার চেষ্টা করেস।
বিচারের রায়ে আদালতকে প্রভাবিত করার জন্য মেয়েটি জেলে পাঠানো হয়।
আইনজীবী টনি প্রোসার জানান, এই দু’জনের সম্পর্ক মেটেও ভাল যাচ্ছিল না। এর এক পর্যায়ে আকাশ ঘটনার ইতি চানতে চান। সে কথা শুনে মেয়েটি জানান, তিনি অন্তঃসত্তা।
পরে আকাশ মেয়েটিকে জানান, তিনি কয়েকদিনের জন্য বাইরে যেতে চান। একথা শুনে মেয়েটি আকাশের সামনে এসে দাড়িয়ে বলেন, যদি তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে তিনি আকাশের বিরুদ্ধে বাড়িতে শারীরিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ আনবেন।
এরপর নিকোলা স্মিথ নামের এক মহিলার বাড়ি থেকে পুলিশের কাছে একটি ফোন করা হয়।
এতে বলা হয়, ছেলেটি তার গলা টিপে ধরেন। এতে এক পর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাকে প্রায় প্রতিদিন মারধরও করা হয়। এছাড়া মেয়েটি তাকে ধর্ষণ করারও অভিযোগ আনেন।
গিল্ডফোর্ড কাউন আদালতের বিচারক ক্রিস্টোফার ক্রিচলো বিচারের রায় দিতে গিয়ে বলেন, অসততা ও মেডিক্যাল রিপোর্ট পাল্টানোর মধ্য দিয়ে আপনি আদলতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। এছাড়া আকাশ এন্ড্রুর জীবনে সমস্যার সৃষ্টি করেছেন।
আদালত কক্ষের পেছন দিকে বসেছিলেন মেয়েটি মা। উত্তমসিংকে জেলে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি হু হু করে কেঁদে ফেলেন।
এফএফ





