মিশরের অভ্যুত্থানকারী সেনা প্রধান আব্দেল ফাত্তাহ আল-সিসি দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। কুয়েতি দৈনিক আল-সেইয়াসাহ’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন সিসি। তবে, সেনাবাহিনী থেকে এ ব্যাপারে এখনো আনুষ্ঠানিক কোন ঘোষণা দেয়া হয়নি।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি-না পত্রিকাটির এমন এক প্রশ্নের জবাবে সিসি বলেন, তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখার যে ‘আকাঙ্ক্ষা’ মিশরের জনগণের রয়েছে তার প্রতি তিনি 'সম্মান' দেখাতে চান।
অবশ্য গতমাসে সেনা কমান্ডাররা প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে সিসি’র প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাকে 'ফিল্ড মার্শাল' পদে উন্নীত করেন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে মিশরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দেশটির প্রধান রাজনৈতিক দল মুসলিম ব্রাদারহুড ও এর নেতাদের রাজনীতিতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় ওই নির্বাচনে জেনারেল সিসির তেমন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবে না; ফলে তার 'বিজয়ী' হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
গত বছরের ৩ জুলাই মিশরের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসিকে বন্দুকের নলের মুখে ক্ষমতাচ্যুত করেন জেনারেল সিসি। এরপর আমেরিকা ও ইসরাইলের পূর্ণ পৃষ্ঠপোষকতায় মুসলিম ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী দমন অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। এতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হন। এখনও হাজার হাজার ব্রাদারহুড নেতা-কর্মী কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
ফলে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলকে নিমূর্ল করে মিশরে যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে তাতে সাবেক স্বৈরশাসক হোসনি মুবারকের মতো সেক্যুলার শাসনব্যবস্থার দিকে দেশটির ফিরে যাওয়ার সমূহ আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সিসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তার সঙ্গে মুবারকের পার্থক্য হবে এই যে, সিসি দৃশ্যত একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসবেন। সূত্র: আইআরআইবি
[b]ঢাকা, ৬ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)//এমএ[/b]