পাকিস্তানের জঙ্গি বিমান রোববার ভোরে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত জঙ্গিদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। এ হামলায় ১০০ জনের মতো জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান। তবে নিরপেক্ষ সূত্রে নিহতের সংখ্যার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
করাচি বিমানবন্দরে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে বিবেচিত উজবেক নেতা আবু রেহমান এ হামলায় নিহত হয়েছেন বলে পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা ডনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
রোববার ভোরের দিকে হামলাটি শুরু হয়। উত্তর ওয়াজিরিস্তানের বোয়া ও দাত্তা খেল তেহশিল এলাকায় উজবেক জঙ্গিদের আটটি আস্তানা লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান বিমান বাহিনীর এফ-১৬ জঙ্গি বিমানগুলো।
অভিযান শুরুর আগে শনিবার রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী উজবেক ওই জঙ্গিদের দেশত্যাগ অথবা অস্ত্র সমর্পণ করার চূড়ান্ত সময়সীমা বেধে দিয়েছিল।
এএফপি’র খবরে বলা হয়, তালেবান ও আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জঙ্গিরা উত্তর ওয়াজিরিস্তানের পার্বত্য দেহ্গান এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
কর্মকর্তারা জানান, নিহতদের অনেকেই উজবেক ও অন্যান্য বিদেশী যোদ্ধা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত রোববার করাচি বিমানবন্দরে পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি)’র হামলার জবাবে এটা ওই এলাকায় সরকারি বাহিনীর দ্বিতীয় হামলার ঘটনা।
এর আগে টিটিপি জানিয়েছিল, করাচির ওই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রোববারের হামলায় উজবেক যোদ্ধারা অংশ নেয়। ওই ঘটনায় অন্তত ৩০ জন প্রাণ হারায়। তালেবান আরো জানায়, গত বছর তাদের নেতার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেই হামলাটি চালানো হয়।
এক কর্মকর্তা জানান, ‘ওই এলাকায় উজবেক ও অন্যান্য জঙ্গিদের উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত খবরের ওপর ভিত্তি করেই হামলাটি চালানো হয়।’
পাকিস্তান সরকার এক দশকের বেশি সময় ধরে দেশটিতে ঘাঁটি গেড়ে বসা ইসলামপন্থী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। পাকিস্তান সরকার মার্চ মাসে পাকিস্তানি তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু করে। তবে এতে সামান্য অগ্রগতি হয় এবং সহিংসতা অব্যহত থাকে। পাকিস্তান তালেবান ও আল কায়েদার সঙ্গে সম্পর্কিত উজবেক জঙ্গি গোষ্ঠী উভয়েই করাচি বিমানবন্দরে হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে।সূত্র: এএফপি।
ঢাকা, ১৫জুন (টাইমনিউজবিডি.কম)// টিআই।





