মহাকাশ থেকে পৃথিবী পর্যবেক্ষণের জন্য পাঁচটি বিদেশি কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছে ভারত। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার থেকে সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫২ মিনিটে এসব কৃত্রিম উপগ্রহ বহনকারী রকেটটি যাত্রা শুরু করে। এসময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উপস্থিত ছিলেন।

ওই উপগ্রহগুলোর মধ্যে ফ্রান্সে তৈরি একটি,কানাডার তৈরি দুইটি, সিঙ্গাপুরে তৈরি একটি ও জার্মানিতে তৈরি একটি উপগ্রহ রয়েছে। ভারত বিলিয়ন ডলারের স্পেস মার্কেটের বড় বিনিয়োগকারী। এরইমধ্যে ভারত বেশ কয়েকটি মহাকাশ অভিযান চালিয়েছে। উৎক্ষেপণের ১৭ থেকে ১৯ মিনিটের মধ্যেই এ সব উপগ্রহকে নিজ নিজ কক্ষপথে বসানো হয়।

উৎক্ষেপণের পর ইসরোর বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, "দেশবাসীর গর্বের মুহূর্ত এটি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি গর্ববোধ করছি। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ব ভারতের মহাকাশ সক্ষমতাকে মেনে নিয়েছে।"

ইসরোর বিজ্ঞানীদের উদ্দেশে নরেন্দ্র মোদি বলেন, "কম খরচে আধুনিক প্রযুক্তিতে কাজ করে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে ইসরো। অগ্রগতি হয়েছে ভারতের মহাকাশ গবেষণার। সার্ক উপগ্রহ উৎক্ষেপণেও ভারতকে চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। প্রতিবেশী দেশগুলিকে সার্ক উপগ্রহ উপহার দেবে ভারত।"

এ সময় আইএসআরওকে আরো অত্যাধুনিক এবং ভারি উপগ্রহ বসানোর সক্ষমতা অর্জনেরও আহ্বান জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এর আগে রোববার শ্রীহরিকোটায় পৌঁছে টুইটার বার্তায় মোদি বলেছিলেন, তার সরকার মহাকাশ কর্মসূচিকে আরো জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ইতিপূর্বে আমেরিকা, ফ্রান্সের মতো দেশের কাছ থেকে মহাকাশ সংক্রান্ত যাবতীয় ছবি কিনতে হতো ভারতকে। ভারতীয় মহাকাশ বিজ্ঞানীদের দাবি, এখন আর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা নয় মহাকাশে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে ভারত।

পিএসএলভি-সি২৩-রকেট উৎক্ষেপণের কাজ শুরু হয়েছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর আমলে। এই নিয়ে পিএসএলভি'র রকেট ২৭ বার সফলভাবে উপগ্রহ উত্ক্ষেপণ করল। এবার ২৩০ টন ওজনের এই রকেট তৈরির খরচ হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, ভারতের পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল(পিএসএলভি) এ পর্যন্ত সফলভাবে ৬৭টি কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছে। এরমধ্যে ৪০টিই বিদেশি কৃত্রিম উপগ্রহ। ২০০৮ সালে একক অভিযানেই ১০টি কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছিল ভারত।

ঢাকা, ৩০ জুন (টাইমিনিউজবিডি.কম) // জেআই // কেবি