তুরস্কের একটি শহর ইস্তাম্বুল। শুধু শহরই নয়, বরং বলা চলে একটি কিংবদন্তী। এক সময় এই ইস্তাম্বুল শহরই ছিল তুরস্কের রাজধানী। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে শত্রু কর্তৃক অবরূদ্ধ হয়ে পড়ায় রাজধানী স্থানান্তরিত হয়ে যায় আংকারায়। তাই বলে প্রাচীন রাজধানী ইস্তাম্বুলের গুরুত্ব কোন অংশেই উপেক্ষা করা যায় না। একদা গৌরবিনী এই ইস্তাম্বুলই ছিল পৃথিবী শাসনকারী বাইজ্যানটাইন ও পরবর্তীতে অটোম্যান সাম্রাজ্যের রাজধানী। 
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1396593241.jpg[/img]
ইস্তাম্বুলে রয়েছে প্রভাবশালী সাহাবা আবু আইয়ুব আনসারী ও আরো অনেক সাহাবার পবিত্র সমাধি এবং ইস্টার্ন অর্থোডক্স খ্রীষ্টানদের মূল উপাসনালয় হাজিয়া সোফিয়া। সৌন্দর্যে অনন্য হাজিয়া সোফিয়া শুধু উপাসনালয়ই নয়, বরং তা বাইজ্যানটাইন সাম্রাজ্যের স্থাপত্য নিদর্শন হয়ে দাড়িয়ে রয়েছে ইস্তাম্বুলের বুকে। আজকেও স্থাপত্য শৈলীর ইতিহাসে প্রথম সারির স্থান দখল করে থাকে ইস্তাম্বুলের পুরাকীর্তী হাজিয়া সোফিয়া।
শুধু তুরস্কের নয়, এশিয়া মহাদেশের অন্যতম আকর্ষণীয় শহর হচ্ছে ইস্তাম্বুল। আর ইস্তাম্বুলের প্রধান আকর্ষণ বসফোরাস। কেননা, বসফোরাস প্রণালিতে কলকল বয়ে চলা পানির ধারাটি সংযুক্ত করেছে এশিয়া ও ইউরোপকে। 
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1396593217.jpg[/img]
এই পবিত্র প্রবাহ দুটি বিশাল মহাদেশের সংযোগস্থল দুটি ভিন্ন জনপদের মহাসঙ্গম। এশিয়া ও ইউরোপকে একত্রে বলা হয় ইউরেশিয়া, যার বিভাজন রেখা হলো বসফোরাস প্রণালি, যে প্রণালির অবস্থান ইস্তাম্বুলে। এ কারণে ইস্তাম্বুলকে বলা হয়, দুটি মহাদেশের একটি শহর। অত্যন্ত সুচারু ও পরিকল্পিত শহর ইস্তাম্বুল। 
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1396593222.jpg[/img]
নিত্যদিনের সূর্যের আলোয় ঝিকমিক করে শহরটি। দেখে যেন মনে হয় স্বপ্নের জগৎ। শহরটির দুধারে সাজানো-গুছানো পরিকল্পিত বাড়িঘর-দালান-কোঠা, মাঝে মাঝে বৃক্ষরাজির অপরূপ শোভা, মাঝখানে বসফোরাস প্রণালি। এ যেন শিল্পীর তুলিতে অঙ্কিত কোনো চিত্রশিল্প।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1396593227.jpg[/img] 
ইস্তাম্বুলের ভেতর দিয়ে যে বসফোরাস প্রণালি বয়ে গেছে এর আয়তন ৩২ কিলোমিটার। উত্তরে কৃষ্ণসাগর এবং দক্ষিণে মর্মর সাগর। প্রণালির গভীরতা গড়ে ৫০ মিটারের মতো। 
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1396593240.jpg[/img]
প্রশস্ততা কোথাও কম, আবার কোথাও বেশি। ইউরোপ ও ভলকান রাষ্ট্রগুলোর জাহাজ চলে এই প্রণালি দিয়ে। 
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1396593242.jpg[/img]
কৃষ্ণসাগর বসফোরাসের মাধ্যমে মর্মর সাগরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবং মর্মর সাগর ডার্ডানেলিস প্রণালির মাধ্যমে ইজিয়ান সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে।
গ্রান্ডবাজার এশিয়ার একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বিশাল বাজার। বিচিত্র ধরনের পণ্য সাজানো রয়েছে স্তরে স্তরে। এখানে প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধুনিক রুচির এক অপরূপ সমন্বয় ঘটেছে। 
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1396593276.jpg[/img]
আরবী জীবনধারার সাথে এশীয় জীবন-প্রবাহের এক প্রাণবন্ত মিশ্রণ। মুসলিম সংস্কৃতির সাথে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির সেতু-বন্ধন এখানে স্পষ্টত অনুভব করা যায়।
ছোট ছোট দোকানগুলো পণ্যদ্রব্যে ভরপুর। কী নেই এখানে? সোনা-দানা, মনি-মুক্তা থেকে শুরু করে জামা-কাপড়-কার্পেট, লেদারগুড্স, হাতের চুড়ি, খোঁপার কাঁটা ইত্যাদি সবকিছুই এখানে মওজুদ। 
দোকানীদের ব্যবহার অত্যন্ত ভদ্র ও বিনয়ী। প্রত্যেক দোকানের সামনেই দু-একজন লোক দাঁড়িয়ে আছে, তারা সবিনয়ে সকলের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করছে আর দোকানে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ মার্কেটে ঘোরাফেরা করছে। প্রতিদিন এখানে প্রায় ৫ লাখ লোক কেনাকাটা করতে আসে। কেউ হয়তো শুধু ঘুরে বেড়ানোর জন্য, কেউ হয়তো বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করার জন্য এবং অধিকাংশই হয়তো কিছু না কিছু কেনার জন্য। তবে সকলেই মনে হলো বেশ জবষধীবফ. কোন তাড়াহুড়া নেই। ধীরে-সুস্থে ঘুরে-ফিরে সবকিছু উপভোগ করছে।
ঐতিহাসিক হিপোড্রোম বা সুলতান আহমদ স্কয়ার ইস্তাম্বুলের এক সুপ্রাচীন ঐতিহ্য। এ সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের বর্ণাঢ্য নিদর্শন এ নয়নাভিরাম স্মৃতিসৌধের নির্মাণ কাজ শুরু হয় রোমান সম্রাট সেপটিমাস সেভেরাসের শাসনকালে খৃস্টীয় ২০৩ সনে। 
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1396593293.jpg[/img]
ইংরাজি বর্ণমালার ‘ইউ’ অক্ষরের আকারে নির্মিত এ হিপোড্রোমে তখন মোট চল্লিশ সারিতে ৩০,০০০ দর্শকের বসার ব্যবস্থা ছিল। ৪০০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১২০ মিটার প্রস্থবিশিষ্ট হিপোড্রোমটি প্রাচীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম হিপোড্রোম নামে খ্যাত।
[b]ঢাকা, ৪ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসএইচ[/b]