বান্দরবনের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে দুই দফা গুলিবর্ষণ এবং আহত ২ বাংলাদেশিকে অপহরণের ‘বিশ্বাসযোগ্য তথ্য’ সরবরাহ করা হলেও মিয়ানমার এখনও বিষয়টি স্বীকার করেনি। ঘটনার চার দিনের কূটনৈতিক চেষ্টা এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র মাঠপর্যায়ে অব্যাহত যোগাযোগেও অপহৃত দুই বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

মিয়ানমারের জিম্মায় থাকা ওই দুই বাংলাদেশীর একজন এরই মধ্যে মারা গেছেন জানিয়ে তার লাশ ফেরত দেয়া এবং আহত অপরজনের দ্রুত মুক্তি চেয়ে ঢাকাস্থ মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হলেও কোন সদুত্তর মিলেনি।

বরং দেশটির পক্ষ থেকে গুলিবর্ষণ এবং আহত দুই বাংলাদেশীকে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বরাবর অস্বীকার করা হচ্ছে। ঢাকাস্থ মিয়ানমার দূতাবাস এবং মিয়ানমারে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে চালানো কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল কি? জানাতে চাইলে গতকাল সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, অপহৃতদের ফেরত দেয়া দূরে থাক, এখনও মিয়ানমার ঘটনাই স্বীকার করছে না।

সীমান্তে মিয়ানমার বাহিনীর গুলিবর্ষণ এবং দুই বাংলাদেশিকে আহত অবস্থায় ধরে নিয়ে যাওয়ার যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ বাংলাদেশের কাছে রয়েছে এবং মিয়ানমারকেও সরবরাহ করা হয়েছে জানিয়ে ওই কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশ কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেছে এবং সীমান্ত বাহিনী পর্যায়ে পতাকা বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চলছে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের বরাতে পররাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্বশীল ওই কর্মকর্তা জানান, গত ১৪ই ডিসেম্বর সকালে নাইক্ষ্যংছড়ির মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন আশারতলীর দোছড়িখালের শেষ মাথায় কাঠ কাটতে যান জয়নাল আবেদিন নামের এক বাংলাদেশি এবং তার দুই সহযোগী।

এ সময় সীমান্তের ওপার থেকে দেশটির পোশাকধারী সদস্যরা অতর্কিতভাবে তাদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। ঘটনাস্থলেই জয়নাল আবেদিন গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে যান।

তার দুই সহযোগী আহত হলেও তারা প্রাণ নিয়ে ফিরে আসতে সমর্থ হন। সীমান্তের প্রায় ৫০ গজ ভেতরে ওই বাংলাদেশি আহত অবস্থায় পড়েছিলেন জানিয়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা বলেন, গুলি করতে করতে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে আহত জয়নাল আবেদিনকে ধরে নিয়ে যায়।

পরদিন ১৫ই ডিসেম্বর জয়নালের খোঁজে তার স্বজনরা ওই এলাকায় গেলে আবারও মিয়ানমারের নিরাপত্তা রক্ষীরা গুলি চালায়। ওই ঘটনায় সৈয়দ আলম নামে আরও এক বাংলাদেশি ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হন। তাকেও তারা ধরে নিয়ে যায়। পরপর দুটি ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি পতাকা বৈঠক চেয়ে দুই দফা মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে চিঠি পাঠায়। কিন্তু মিয়ানমার ঘটনা অস্বীকার করে পতাকা বৈঠকে বসতে অস্বীকৃতি জানায়।

পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, পতাকা বৈঠকে মিয়ানমার রাজি না হওয়ার পর থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করে সরকার। এ সময়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অপহৃত জয়নাল আবেদিনের মৃত্যুর খবর আসে। সরকারের তরফে কোনো রকম বিলম্ব না করে ঢাকাস্থ মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়।

শুক্রবার জুমার অল্প আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরীর কক্ষে ডেকে পাঠানো হয় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত মিও মিন্ট থানকে। প্রথমে মৌখিক এবং পরে লিখিত (এইড মেমোয়ায়) দিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে মহাপরিচালক প্রায় ৩৫ মিনিট কথা বলেন।

সেখানে মিয়ানমার সীমান্ত বাহিনীর জিম্মায় থাকা নিহত জয়নাল আবেদিনের লাশ এবং আহত সৈয়দ আলমকে দ্রুত ফেরত দেয়ার তাগিদ দেয়া ছাড়াও আগামী দিনে এমন পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সীমান্ত শান্ত রাখার দাবি জানানো হয়।

এআই