ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যে এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর খামারবাড়ি থেকে একপাল মহিষ চুরি যাওয়ার পর রাজ্যের পুলিশ বাহিনী তার সন্ধানে ব্যাপক তল্লাসি অভিযান শুরু করেছে।
রামপুর জেলার পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে দিনভর অভিযানের পর চারটি হারানো মহিষের সন্ধানও মিলেছে রোববার বিকেলে, তবে এখনও বেপাত্তা রয়েছে আরও গোটাতিনেক মহিষ।
আজম খান শুধু উত্তরপ্রদেশের নগরোন্নয়ন মন্ত্রীই নন, তিনি ক্ষমতাসীন সমাজবাদী পার্টির সবচেয়ে জবরদস্ত নেতা, এবং মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবও তাঁকে রীতিমতো সমীহ করে চলেন।
তার আর একটা পরিচয়, আজম খান কখনওই বিতর্ক থেকে বেশিদিন দূরে থাকেন না। মুজফফরপুরের দাঙ্গা থেকে ইউরোপ-আমেরিকায় বিধায়কদের নিয়ে প্রমোদ ভ্রমণ, সব বিষয়েই আজম খানের নানা মন্তব্যকে মিডিয়া তুলোধুনা করেছে, কিন্তু তিনি কখনও এতটুকুও বিচলিত হয়েছেন বলে জানা নেই।
তো এহেন আজম খানের গ্রামের খামারবাড়ি থেকেই কে বা কারা শনিবার ভোররাতে সাতটি মহিষকে গলার চেনসুদ্ধু নিয়ে চম্পট দেয়।
নাটকের শুরু এর পরেই। দাঙ্গা দমন থেকে নারী-নির্যাতন রোধ কোনও ব্যাপারেই যে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ কোনও তৎপরতা দেখায় না বলে অভিযোগ। বিশাল বাহিনী, গাড়ির বহর আর গোয়েন্দা কুকুর নিয়ে তাদের বিরাট দল সঙ্গে সঙ্গে হাজির হয়ে যায় মন্ত্রীর খামারবাড়িতে।
আর এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন রামপুরের পুলিশ সুপার সাধনা গোস্বামী নিজে, তিনি জানান, ‘এই রিসোর্ট আর এই মহিষের পাল সবই মন্ত্রীজির। এই পাসিয়াপুরা গ্রামে খামারবাড়ির পেছনে যে চাষের ক্ষেত আর জঙ্গল আছে সে দিক থেকে চোররা এসে মহিষগুলোকে ভাগিয়ে নিয়ে গেছে বলে আমরা সন্দেহ করছি।’
এসপি আরও বলেন, ‘এখন মহিষের পায়ের ছাপ ধরে ধরে আমরা এগোচ্ছি। আশা করছি এই পথে এগিয়েই আমরা চুরির কিনারা করতে পারব।’
মহিষের পালের সন্ধানে দিনরাত এক করে এরপর খোঁজা শুরু করে এলাকার অন্তত তিনটি থানার পুলিশ।
এলাকার কারও মন্ত্রীর বাড়ি থেকে চুরির সাহস হবে না ধরে নিয়ে আশেপাশের জেলাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে তৈরি করা হয় সন্দেহভাজনদের নামের তালিকা। পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদও শুরু করে দেয়।
এস পি সাধনা গোস্বামী জানান, ‘এরকম চুরির ইতিহাস যাদের আছে বা যাদের আমরা সন্দেহ করছি, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি আমরা। আশা করছি তা থেকে আমরা তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্রও পাব।’

চুরির প্রায় ৩৬ ঘন্টা পর রোববার বিকেলে অবশেষে পুলিশ জানায়, খোয়া-যাওয়া মহিষগুলোর মধ্যে কয়েকটিকে তারা উদ্ধার করেছে। এখন এগুলোই আজম খানের হারানো মহিষ কি না, তা মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে পুলিশের এই মহিষ-খোঁজা নিয়ে গোটা ভারতের সংবাদমাধ্যমে ততক্ষণে শুরু হয়ে গেছে তুমুল ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ, টিটকিরি করতে ছাড়েননি মি. খানের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সমাজবাদী পার্টিরই সাবেক নেতা অমর সিংও।
অমর সিং বলেন, ‘আজম খানকে আপনারা কী ভাবেন? উত্তরপ্রদেশ তথা গোটা ভারতে মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের একমাত্র মসিহা তিনি। ভোটে সমাজবাদী পার্টির ধস ঠেকাতে পারলে একমাত্র তিনিই পারবেন।’
ফলে সিংয়ের যুক্তি, ‘পুলিশ তো ওনার মহিষ খুঁজবেই। ছাগল কি বেড়াল হারালে সেটাও খুঁজবে! কারণ, খাস আদমির মহিষ কিন্তু আম আদমির ছেলেপুলের চেয়েও অনেক দামি!’
আজম খান অবশ্য এই সব প্ররোচনায় পা দিয়ে পুলিশি অভিযান নিয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেননি।
তবে তার অনুগামীরা জানিয়েছেন, প্রিয় মহিষগুলোর খোঁজ মিলল কি না তা নিয়ে মন্ত্রী সারাক্ষণ পুলিশ কর্তৃপক্ষর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছেন – এবং তাদের উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন। সূত্র: বিবিসি
[b]ঢাকা, ৩ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)//ইএইচ[/b]