যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) প্রধান মাইক পম্পেও চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডন্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে । আগামী জুনের প্রথম দিকে এই বৈঠক হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার গোপনীতার মধ্যে এই বৈঠকের তথ্য এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সিআইএ প্রধান মাইক পম্পেও বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির জের ধরে কয়েক দশক ধরেই উত্তর কোরিয়ার ওপর অবরোধ আরোপ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। অবরোধ উপেক্ষা করে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া উত্তর কোরিয়া চলতি বছরের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ দেখায়। প্রতিবেশি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আলোচনার প্রস্তাব পাঠায় দেশটি। যুক্তরাষ্ট্র ওই আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেও সম্ভাব্য বৈঠক কোথায় হবে তা নির্ধারণ করা হয়নি এখনও।
এই সফরে যুক্তরাষ্ট্রের এক উচ্চতর কর্মকর্তা বলেন, কিমের সাথে গুরুত্বপূর্ণ এ আলোচনায় দক্ষিণ কোরিয়ার ইন্টেলিজেন্স প্রধান সুহ হুনের সাথে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রদুত কিম ইয়ং চোলও উপস্থিত ছিলেন । এদিকে ট্রাম্পের সবচেয়ে বিশ্বস্ত পরামর্শদাতা পম্পেও আসন্ন জুনে যুক্তরাষ্ট্র এবং উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ সম্মেলনের বিষয়ে আশ্বাস দেন।
এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি সারা সান্ডারস বলেন, উত্তর কোরিয়ার সাথে সিআই প্রধানের আলোচনা হয়েছে, কিন্ত সরাসরি যোগাযোগ হয়নি। তিনি বলেন, ট্রাম্প এবং কিমের বৈঠকে অনেক সমেঝেতা আসবে যা দু’দেশের জন্য শান্তি বয়ে আনবে। তবে পম্পেও সম্পর্কে সারাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি সফরের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সরাসরি কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে বিগত দিনগুলোতেও মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা উত্তর কোরিয়া সফর করেছেন। ২০০ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মেডেলিন অলব্রাইট তখনকার উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট বর্তমান প্রেসিডেন্টের বাবা কিম জং উনের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ে সাক্ষাৎ করেছিলেন। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স প্রধান জেমস ক্ল্যাপলার এক গোপন সফরে উত্তর কোরিয়া গিয়েছিলেন। দেশটিতে আটক থাকা দুই মার্কিন নাগরিকের মুক্তি বিষয়ে দূতিয়ালি করতে যাওয়া ওই সফরে কিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি তিনি।
শাহরিয়ার





