একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করাকে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ড’ বলে মন্তব্য করেছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে এই ঘটনা তদন্তে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচআরসি) তদন্তও চায় দেশটি।
পাকিস্তানের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রালয় সম্পর্কিত সিনেট কমিটির চেয়ারম্যান রেহমান মালিক ইউএনএইচআরসি’র হাইকমিশনারকে লেখা এক চিঠিতে এ আহ্বান জানিয়েছেন।
চিঠিতে মালিক বলেন, পাকিস্তানের জনগণ বেশ উদ্বেগ ও গভীর মনস্তাপের সঙ্গে এই দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুদণ্ড প্রত্যক্ষ করেছে এবং আমরা একে নজিরবিহীন মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে মনে করছি। ১৯৭১ সালের ঘটনায় বাংলাদেশে যে ত্রুটিপূর্ণ বিচার চলছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সে বিষয়ে নিশ্চুপ ভ’মিকায়ও পাকিস্তান উদ্বিগ্ন।
বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে দখলদার মন্তব্য করে মালিক বলেন, প্রায় ৪৫ বছর আগে যে সব রাজনৈতিক নেতা তাদের তৎকালীন সরকারের (পাকিস্তান) প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিল এবং অভ্যন্তরীন ব্যাপারে ভারতের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছিল, তাদের ওপর প্রতিশোধ নিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।
গত ৭ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরকালে মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনাদের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভারতীয় সেনারা যুদ্ধ করেছিল। কোনো প্রত্যক্ষদর্শীই এ কথা বলতে সক্ষম ছিল না যে, এটা ভারতীয়দের রক্ত আর এটা মুক্তিযোদ্ধাদের রক্ত।
মালিক বলেন, মোদির এ বক্তব্যই প্রমাণ করে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীন ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করেছিল ভারত। তার মতে, জাতিসংঘ ও এর মানবাধিকার কমিশনসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কোনোভাবেই মোদির এই বক্তব্য এড়িয়ে যাওয়া উচিৎ হবে না যে, ১৯৭১ সালে যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল তাতে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল শ্যাম মানেকশ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী জগজীবন রাম সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছিল। বেসামরিক নাগরিক হত্যা ও পাকিস্তানকে খন্ডিত করতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করেছিলেন।
পাকিস্তান সমর্থক সাকাণ্ডমুজাহিদের বিরুদ্ধে গণহত্যাসহ যে সব অভিযোগ আনা হয়েছিল, সেগুলোকে সাজানো উল্লেখ করে মালিক বলেন, তারা নয়, বরং ভারত সমর্থিত মুক্তিযোদ্ধারাই গণহত্যায় জড়িত ছিল।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে ‘জঘন্য অপরাধ’ মন্তব্য করে পকিস্তানের এই সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি এই জঘন্য অপরাধমূলক কাজকে এড়িয়ে যেতে থাকে, তাহলে বাংলাদেশ সরকার তার রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার যে নীতিতে চলছে, তা থেকে সরে আসবে না। বরং বিচারের জন্য অপেক্ষমান রাখা এসব রাজনৈতিক নেতাকেও একইভাবে হত্য করা হবে।
যুদ্ধাপরাধীদের নিস্পাপ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের জীবন রক্ষায় মালিক শিগগিরই জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একইসঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধে দেওয়া মৃতুদণ্ডের ঘটনাগুলো তদন্তে তিনি কমিশনের কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ সফরের আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের রায় কার্যকর করার পর থেকে বেশ কয়েকবার প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে পাকিস্তান। এসব ঘটনার প্রতিবাদও জানিয়েছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ গত ২১ নভেম্বর সাকাণ্ডমুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় পাকিস্তান। গত সোমবার ইসলামবাদে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনারকে তলব করে ১৯৭১ সালে পাক সেনাদের হাতে সংঘটিত গণহত্যার দায় অস্বীকার করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এআই





