শফিক রেহমান-এর মুক্তির দাবিতে লন্ডনে সংবাদ সম্মেলন করেছে সাপোর্ট লাইফ ইউকে।পূর্ব লন্ডনের স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে বুধবার এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সম্মেলনে বিশিষ্ট সাংবাদিক শফিক রেহমানের আশু মুক্তির দাবী করেন উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, মার্কিন আদালতে জমা দেয়া রিপোর্টে প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ কিংবা দৈহিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করার অভিযোগ আদালত গ্রহণ করেনি।

এবং ৩০০মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী পুত্রের বক্তব্য দাবী' করেন সাংবাদিক সম্মেলন থেকে ।

তা সত্বেও ভিত্তিহীন অভিযোগে ঢাকায় পুলিশ হেড কোয়ার্টারের নির্দেশে শফিক রেহমানের বিরুদ্ধে এফআইআর, গোপনে তদন্ত ও মামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের হোয়াইটচেপলের একটি রেস্টুরেন্টর এই সংবাদ সম্মেলনে।

শফিক রেহমান প্রতিষ্ঠিত সংগঠন সাপোর্ট লাইফ ইউকে’র উদ্যোগে লন্ডনের স্থানীয় রেস্টুরেন্টের এই সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার বিপ্লব পোদ্দারের পরিচালনায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক শামসুল আলম লিটন।

আর শফিক রেহমানের মামলার চার্জশীট ও রায়ের তথ্য পর্যালোচনা করে উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার মাহাদী হাসান।

সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত সাংবাদিক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভয়েস ফর জাস্টিস’এর প্রধান ড. এম হাসনাত হোসেইন, কার্ডিফ ইউনিভার্সিটি’র সাবেক অধ্যাপক ড. কে এম এ মালেক, বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন ইউ কে’র প্রেসিডেন্ট আবু তাহের চৌধুরী, সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান, সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান, সাংবাদিক নূরে আলম বরষণ, সাংবাদিক মাহবুব আলী খানশূর, ব্যারিস্টার আলিমুল হক লিটন প্রমুখ।

এছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন শহর যেমন আমেরিকা, কানাডা, সুইডেন, ইটালি থেকে বিভিন্ন মানবাধিকার কর্মীরা শফিক রেহমানের আশু মুক্তির দাবীতে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

লিখিত বক্তব্যে বলেন, আদালতে পেশকৃত মার্কিন সরকারের ডকুমেন্টে উল্লিখিত ব্যক্তি অর্থাৎ সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে সরকার টু শব্দটি করছে না কেন?

শেয়ার মার্কেট ও ব্যাংকগুলোর যে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে তারও কোনো বিচার হচ্ছে না।

এই দুই বিষয়ের মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না- এটা জানার অধিকার অবশ্যই সকলের আছে। আর তাই সকলের এ ব্যাপারে নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত চায়।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, বিবিসির প্রাক্তন সাংবাদিক শফিক রেহমান একজন ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিক’।

কোনো বিষয় না খতিয়ে ও প্রমান সংগ্রহ ছাড়া লেখেন না। তিনি সাংবাদিক হিসেবে হয়তো তথ্য সংগ্রহ করে রেখেছেন।তাতে তো তাঁর কোন অপরাধ হতে পারে না। এ ছাড়াও তিনি লেখেন নাই, তার মানে হচ্ছে লেখার মতো হয়তো পর্যাপ্ত তথ্য এখানে ছিল না।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় একের পর এক অনলাইনে যেভাবে স্ট্যাটাস’ দিয়ে যাচ্ছেন, তাতে তদন্তকাজ অবশ্যই প্রভাবিত হচ্ছে ও তিনি সুবিচারের অধিকার হারাচ্ছেন।

সাংবাদিক শফিক রেহমানের স্ত্রী তালেয়া রেহমান তার বয়স, অসুস্থতা ও রিমাণ্ডের নামে নির্যাতনের ফলে তার জীবনহানির যে আশঙ্কা করেছেন তাঁর সাথে সংবাদ সম্মেলনে একমত পোষণ করে উদ্ধিগ্নতা প্রকাশ করা হয়।

শফিক রেহমানকে শীগ্রই মুক্তি না দিলে সম্মেলন থেকে তাদের পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়ঃ

১. আগামী ১৭ মে যুক্তরাজ্যে (লন্ডন, বার্মিংহাম ও ম্যানচেস্টার), ইউরোপ ও দক্ষিন আমেরিকার বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশ মিশনে স্বারকলিপি পেশ।

২. জুন মাস ব্যাপী জনসংযোগ এবং বিভিন্ন কুটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক কতৃপক্ষের দপ্তরে সভা ও জনসংযোগ।

৩. ১২ জুলাই মঙ্গলবার একই দাবিতে সমাবেশ।

৪. দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নিয়ে কনভেনশন- জুলাই শেষ সপ্তাহে ২০১৬ (তারিখ ও স্থান পরে জানানো হবে )

এসএম