চীনের স্যাটেলাইট সাগরের যে স্থানে তিনটি ‘সন্দেহজনক ভাসমান বস্তু’ শণাক্ত করার দাবি করেছিল সেই স্থানে কোনো কিছুর অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি মালয়েশিয়া। ফলে দেশটির নিখোঁজ বিমানটি নিয়ে রহস্য ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে।
এর আগে বেশিরভাগ দেশ নিখোঁজ বিমানটির সন্ধানে যেখানে অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে তার কাছাকাছি একটি এলাকায় চীন ‘সন্দেহজনক বস্তু’ শণাক্তের দাবি করায় তা পর্যবেক্ষণে সেখানে বিমান পাঠিয়েছিল মালয়েশিয়া।
দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রধান আজহারউদ্দিন আবদুল রহমান বৃহস্পতিবার বলেন, ‘চীনের উপগ্রহ থেকে পাওয়া তিনটি ‘সন্দেহজনক ভাসমান বস্তু’ এর স্থানে কিছু নেই। আমরা সেখানে বিমান পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু কিছু পাওয়া যায়নি।’
মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের এ খবরে নিখোঁজ বিমানটি উদ্ধারের আশার গুড়ে ফের বালি ঢেলেছে।
এর আগে মালয়েশিয়ার পরিবহন মন্ত্রী হিশাম্মুদ্দিন হুসেইন বৃহস্পতিবার এক টুইটার বার্তায় বলেন, চীনা উপগ্রহের ছবিতে ‘সন্দেহজনক ধ্বংসাবশেষ’ পাওয়ার স্থল পর্যবেক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে সেখানে একটি বিমান পাঠানো হয়েছে।
চীনের পার্লামেন্টের বার্ষিক সভার ফাঁকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রধান লি জিয়াঝিয়াং সাংবাদিকদের বলেন, উপগ্রহের মাধ্যমে পাওয়া দক্ষিণ চীন সাগরে ভাসমান ‘কিছু বস্তুর’ ছবি যে মালয়েশিয়ার নিখোঁজ উড়োজাহাজের, এর কোনো প্রমাণ নেই। তিনি বলেন, ‘চীনের স্যাটেলাইট কিছু ধোঁয়া ও ভাসমান বস্তুর ছবি পেয়েছে। আমরা এখনই নিশ্চিত করতে পারছি না, এগুলো নিখোঁজ বিমানটির কি না।’ তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ নিখোঁজ উড়োজাহাজটির বিষয়ে কোনো কিছু গোপন করছে না।
এদিকে বিন্দু পরিমাণ আশা জিইয়ে থাকা পর্যন্ত মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমানটির অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং। বৃহস্পতিবার চীনের পার্লামেন্টের বার্ষিক অধিবেশন শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমান নিখোঁজের বিষয়ে পাওয়া যেকোনো তথ্যই যাচাই করে দেখা হবে। বহু দেশের অংশগ্রহণে বড় পরিসরে নিখোঁজ বিমানটির সন্ধান তৎপরতা চলছে।
গত শুক্রবার দিবাগত রাত স্থানীয় সময় ১২ টা ৪১ মিনিটে কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিং যাওয়ার পথে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৩৭০ নিখোঁজ হয়। বিমানটিতে ১৪ টি দেশের ২৩৯ জন যাত্রী ও বিমানকর্মী ছিলেন। বিমানের সবচেয়ে বেশি ১৫৩ জন আরোহী ছিলেন চীনের।
বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু হলেও এখন পর্যন্ত কোন সুরাহা হয়নি। বিমান ও এর যাত্রীদের ভাগ্যে আসলেই কি ঘটেছে তা জানা যায়নি। উদ্ধারকারীদের কাছ থেকে মিলতে থাকে একের পর এক হতাশাজনক খবর। এরই মধ্যে চীনের উপগ্রহের ছবি বিমান উদ্ধারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এক বাঁক এনে দিলেও পরবর্তীতে সেখানে কোন কিছু না পাওয়ার খবর আবারো সবাইকে হতাশ করেছে।
চীন বলেছে, বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার পরদিন রোববার দেশটির উপগ্রহ এই ছবিগুলো তুলেছিল। তবে বুধবার এটি প্রথম প্রকাশ করা হয়।
ছবিগুলো মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়েছে কিনা কিংবা দেয়া হয়ে থাকলে তা কবে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে মালয়েশিয়ার কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলেননি।
তবে ভিয়েতনামের এক সেনা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপি'কে বলেন, বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে ভিয়েতনামকে অবহিত করা হয় এবং তারা এখন খবরটি পর্যালোচনা করছে।
মালয়েশিয়ার বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই সাগরের পানিতে ভাসমান তেল বা ধ্বংসাবশেষ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এতেও আশাবাদী হওয়ার মতো কিছু না মেলায় সন্ধান এলাকার আয়তন দ্বিগুণ করা হয়েছে বুধবার। এখন ২৭ হাজার বর্গ নটিক্যাল মাইল (৩৫ হাজার বর্গমাইল) আয়তনজুড়ে সন্ধানকাজ চলছে।
চীন সাগরের ভিয়েতনাম উপকূলবর্তী এলাকায়ই মূলত অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
গত বুধবার দক্ষিণ চীন সাগরে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার কয়েক মুহূর্ত আগে মালয়েশিয়ার উড়োজাহাজের দেওয়া বার্তা প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়ার উড়োজাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষের এক রেডিও বার্তার সাড়া দিয়ে এমএইচ ৩৭০ ফ্লাইটটি জানিয়েছিল ‘সব ঠিক আছে’ (অলরাইট)।
এ বার্তা দেওয়ার কয়েক মুহূর্ত পর রাডার থেকে হারিয়ে যায় বিমানটি।
নিখোঁজ হওয়ার পর এই ছয় দিনে ২২টি বিমান ও ৪০টি বিভিন্ন ধরনের নৌযান তন্ন তন্ন করে খুঁজছে উড়োজাহাজটিকে। গত মঙ্গলবার চীন ১০টি স্যাটেলাইট মোতায়েন করে। সূত্র: এএফপি
[b]ঢাকা, ১৩ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) //এমএ[/b]