পশ্চিম আফ্রিকায় মহামারী আকার ধারণ করা ইবোলা প্রতিরোধে লাইবেরিয়ায় তিন হাজার সেনা পাঠাচ্ছে আমেরিকা। মঙ্গলবার সেনা পাঠানো সংক্রান্ত পরিকল্পনার বিস্তারিত ঘোষণা করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। খবর বিবিসি'র।
তবে, ধারণা করা হচ্ছে মার্কিন সেনা সদস্যরা নতুন নতুন চিকিৎসাকেন্দ্র নির্মাণ করবেন এবং সেখানকার মেডিক্যাল স্টাফদেরকে প্রশিক্ষণ দিবেন। আগামী ছয় মাসে এই প্রকল্পে ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করা হবে বলেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, মার্কিন পরিকল্পনায় যেসব বিষয় রয়েছে-
এক. প্রতি সপ্তাহে ৫০০ স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণ দান
দুই. ১৭টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ, যার প্রত্যেকটি হবে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট
তিন. লাইবেরিয়ার রাজধানী মনরোভিয়ায় একটি জয়েন্ট কমান্ড অফিস স্থাপন। এই অফিস যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক ত্রাণকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করবে।
চার. কয়েক হাজার বাড়িতে হোম হেলথকেয়ার সামগ্রী বিতরণ
পাঁচ. আক্রান্ত এলাকার অধিবাসীদেরকে রোগীকে চিকিৎসার ব্যাপারে প্রশিক্ষিত করে তোলা।
উল্লেখ্য, পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলা ভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়লেও এ ব্যাপারে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নীরবতাকে দায়ী করা হচ্ছে। অনেক আগেই ইবোলা প্রতিরোধে বিশ্ব নের্তৃবৃন্দের পদক্ষেপ নেয়া জরুরী ছিল বলে মনে করছেন অনেকেই।
সোমবার পশ্চিমা আফ্রিকার আরেক দেশ ঘানার প্রেসিডেন্ট দ্রামানি মাহামা ইবোলার বিস্তৃতিকে প্রতিহত করতে বহির্বিশ্বকে আরও অধিকতর ও দ্রুত সহায়তার হাত বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, গতকাল পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টের রাজধানী আবিদজানে মেডিক্যাল স্বেচ্ছাসেবকরা ইউএনডিপি'র টি-শার্ট পরে হাতে প্ল্যাকার্ড বহন করেন। প্ল্যাকার্ডে ইবোলা রোগের উপসর্গ সম্পর্কে সচেতনতামূলক লেখা ছিল। মেডিক্যাল টিম সদস্যদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়ারও আহ্বান জানান তারা।
উল্লেখ্য, পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওন, লাইবেরিয়া এবং গিনিতে ইবোলা সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। এই তিন দেশে এ পর্যন্ত অন্তত ২৪০০ জন ইবোলায় আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ১২২৯ জন। মারা যাওয়া ১২২৯ জনের মধ্যে গিনিতে ৩৯৪ জন, লাইবেরিয়ায় ৪৬৬ জন, সিয়েরা লিওনে ৩৬৫ ও নাইজেরিয়ার ৪ জন রয়েছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হুঁশিয়ারি জানিয়ে বলেছে, লাইবেরিয়ায় আরও হাজার হাজার মানুষ ইবোলায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত বা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে এবং এমনকি পরোক্ষভাবে দূষিত পরিবেশের মাধ্যমেও এই রোগ ছড়াতে পারে। সূত্র: বিবিসি ও ওয়াশিংটন পোস্ট
ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ





