ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্প এবং তার পরবর্তীতে হওয়া সুনামিতে নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি ক্রমাগত অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪০০। এতে এখনো নিখোঁজ রয়েছে প্রায় ১১৩ জন।
ভয়াবহ এই মানবিক সংকটে অতি জরুরী ভিক্তিতে বিধ্বস্ত সাধারণ মানুষ ও উদ্ধারকারীদের জন্য বিশাল পরিমাণ সহযোগিতার প্রয়োজন বলে বিশ্ববাসীর কাছে আহবান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রধান জানান, নিহতের সংখ্যা এ পর্যন্ত ১৩৭৪ জনে দাঁড়িয়েছে, তবে নিখোঁজ আছে ১১৩ জন। যাদের মধ্যে অধিকাংশই মৃত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার ধসে চাপা পড়া সেন্ট্রাল সুলাওয়েসি প্রদেশের সিজি বিরোমারু জেলার জোনুজ চার্চ ট্রেনিং সেন্টারের বাইবেল প্রশিক্ষণ শিবির থেকে ৩৪ শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই গির্জার ৮৬ জন শিক্ষার্থী নিখোঁজ ছিল। এখনও ৫২ জনের কোনো সন্ধান নেই।
আঘাত হানা সুলাওয়েসি দ্বীপে প্রায় ২ লক্ষ লোকের বসবাস। এতে প্রায় ৬৬ হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। হাজার হাজার শিশু খাদ্য সংকটে ভুগতেছে বিশেষ করে নিরাপদ পানি এবং খাবার। তাদের পাশাপাশি উদ্ধার কাজে নিয়োজিত উদ্ধারকর্মীদেরও খাবারের প্রয়োজন।
এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়া প্রায় ৫ মিলিয়ন মূল্যের সহযোগিতা পাঠায় ইন্দোনেশিয়ার জন্য। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেয়া হয়।
ভূমিকম্পের পর আঘাত হানা সুনামির ঢেউ ছিল ছয় মিটার বা প্রায় সাড়ে ১৯ ফুট উঁচু। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভূ-প্রাকৃতিকভাবে ইন্দোনেশিয়া এমন একটি দেশ যেখানে ভূমিকম্প প্রায় প্রতিদিনই হয়। কিন্তু এবার ভূমিকম্প থেকে এত বড় ঢেউ সৃষ্টি হলো কেন তা বিস্ময়ের।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার মুখপাত্র সুতোপো পুরো নুগ্রহো জানান, পালু, ডঙ্গালা, সিগি ও পারিগি মুনতোঙ্গ শহরে নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। এখন পর্যন্ত ৭৯৯ জন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। সিগি ও বালারোয়াতে এখনো অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছে। ফলে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
পরপর দু’টি প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুলাওয়েসি দ্বীপের পালু শহর। এখানে বসবাসকারী তিন লাখ ৮০ হাজার মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত শুক্রবার সেন্ট্রাল সুলাওয়েসি প্রদেশে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে।
এদিকে ভূমিকম্প-পরবর্তী আফটার শক ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। তাঁরা বিবিসিকে জানান, তাঁরা মৃতদেহ উদ্ধারে সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু ভূমিধসে সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
জেড





