বাংলাদেশে তৈরি ওষুধ, চাউল ও ড্রেজিংকৃত বালু নিতে মালদ্বীপ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে এ আগ্রহ প্রকাশ করেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত।
বানিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সাথে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশে নিযুক্ত মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মেদ অসিম বলেন, “বাংলাদেশ থেকে বালু, ওষুধ ও চাউল আমদানি করতে মালদ্বীপের আগ্রহ রয়েছে। আমরা এদেশ থেকে প্রয়োজনীয় সব পণ্য আমদানি করতে আগ্রহী।”
তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প অনেক উন্নত। আগামী দিনে বাংলাদেশ থেকে মালদ্বীপ বেশি করে ওষুধ আমদানি করবে। মালদ্বীপে বাংলাদেশের তৈরি ইলেক্ট্রনিক পণ্য, টয়লেটারিজ, ওষুধ, ক্রোকারিজ, শুকনা খাবার, কাপড়, শিশুদের পোশাক, সাবান, অলংকার, প্লাস্টিক সামগ্রী ও চামড়াজাতসহ প্রভৃতি পণ্যের প্রচুর চাহিদা মালদ্বীপে রয়েছে।”
ড. অসিম বলেন, “উভয় দেশের ব্যবসায়ী এবং সরকারি পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে এ বাণিজ্য আরো বাড়ানো সম্ভব।”
এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, “এরই মধ্যে বাংলাদেশ শ্রীলংকায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাউল রপ্তানি করেছে। নেপালে ভূমিকম্পের সময় ১০ হাজার মেট্রিক টন চাউল অনুদান হিসেবে পাঠিয়েছে।
মালদ্বীপ-বাংলাদেশ বন্ধুরাষ্ট্র। সেখানে বাংলাদেশের প্রায় ৬৭ হাজার মানুষ বসবাস করছে। বাংলাদেশের প্রায় ৬০ চিকিৎসক মালদ্বীপে সুনামের সাথে স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছে। মালদ্বীপের অনেক ছাত্র-ছাত্রী বাংলাদেশের মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে।”
তিনি আরো বলেন, “গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ৫.৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য মালদ্বীপে রপ্তানি করেছে। একই সময়ে আমদানি করেছে ১.১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। চলমান বাণিজ্য বাড়ালে উভয় দেশ উপকৃত হবে।”
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ওষুধ তুলনামূলক কম দামে সরবরাহ করতে সক্ষম। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় ট্রিপস চুক্তির মেয়াদ ২০৩৩ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। উন্নত বিশ্বসহ পৃথিবীর প্রায় ১০৭টি দেশে বাংলাদেশ ওষুধ রপ্তানি করছে। মালদ্বীপ এ সুযোগ নিতে পারে।”
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৭ নভেম্বর উভয় দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়।
এসএইচ





