আগামী ২০১৮ সালের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে একমত পোষণ করেছে ফিলিস্তিনের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো।
দেশটির প্রথম সারির ১৩টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের মধ্যে দুই দিনের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে এই ঐকমত্যের ঘোষণা আসলো।
মিশরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শেষে গতকাল (বুধবার)এক যৌথ বিবৃতিও দেয়া হয় দলগুলোর পক্ষ থেকে, খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
ফিলিস্তিনের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল ফাতাহ ও হামাসের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিদ্যমান বিরোধের নিস্পত্তিতেও সন্তোষ প্রকাশ করা হয় যৌথ বিবৃতিতে।
এর আগে গত অক্টোবরে মিশরের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এক আলোচনায় ফাতাহ ও হামাসের মধ্যে বিরোধ নিস্পত্তিতে এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এতে গাজায় ক্ষমতাসীন ফাতাহর নিকট গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব হস্তান্তরে রাজি হয়েছে হামাস। দীর্ঘদিন ধরে চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গাজায় ক্ষমতায় আসা হামাস রাফাহ সীমান্তের নিয়ন্ত্রনও ফাতাহর নিকট প্রদান করেছে।
অবশ্য কায়রোতে ফিলিস্তিনি গ্রুপগুলো বলেছে, জাতীয় নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে এখনি কোন সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করুক সেটা তারা চান না।
আমেরিকাসহ পশ্চিমা বিশ্ব-প্রভাবিত ফাতাহ বিগত ২০০৭ সালের নির্বাচনে হামাসের নিকট গাজায় পরাজিত হয়। আর তখন থেকেই গাজার নিয়ন্ত্রনভার হামাসের হাতে চলে আসে। তবে গত মাসে (অক্টোবর) সমঝোতায় পৌছানোর মধ্য দিয়ে গাজার নিয়ন্ত্রনভার গ্রহণ করে মাহমুদ আব্বাস।
এদিকে, ফাতাহ ও হামাসের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে গাজা উপত্যকার নিরাপত্তার ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলা হয়েছে কিনা তা এখনো জানা যায়নি। এমনকি বুধবার তেরটি দলের পক্ষ থেকে দেয়া যুক্ত বিবৃতিতেও এ ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি।
অবশ্য ২০০৭ সালে গাজায় ক্ষমতা লাভের পর থেকেই এই উপত্যকার নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে আসছে হামাসের নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।
তবে, ২০১৮ সালের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের ব্যাপারে একমত হওয়া তেরটি বিবদমান দল গাজা উপত্যকার ওপর চলমান অবরোধ তুলে নেয়ার ব্যাপারে মাহমুদ আব্বাসকে উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানান। এই অবরোধের আওতায় গাজায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা এবং চাকুরিক্ষেত্রে গাজার বাসিন্দাদের বেতন ৩০ শতাংশ কম রাখা হচ্ছিল।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস অবশ্য আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে গাজার নিয়ন্ত্রনভার গ্রহণ সাপেক্ষে তিনি অবরোধ তুলে নিবেন। ঐকমত্যে পৌঁছা রাজনৈতিক দলগুলো এখন আব্বাসের সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চান।
এদিকে ফিলিস্তিনি নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বিশ্ব নেতারাও আশা করছেন, বিবদমান গ্রুপগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐক্য চুক্তির ফলে গাজার বিশ লাখ বাসিন্দার মধ্যে শান্তি ফিরে আসবে। বছরের পর বছর ধরে দারিদ্রতা ও বেকারত্বের কবলে জর্জরিত উপত্যকাটির বাসিন্দাদের দু:খ কিছুটা হলেও লাঘব হবে।
কেবি





