সমুদ্রে ভাসমান নৌকায় থাকা রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশীদের সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে ফিলিপাইন। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলো অভিবাসীবাহী নৌকাগুলো সমুদ্রে ঠেলে দেয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হচ্ছে।

ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র চার্লস জোসে বলেছেন, তার দেশ অভিবাসীদের সহায়তা করতে দায়বদ্ধ। কারণ তারা ১৯৫১ সালের জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সম্মেলনে একটা পক্ষ ছিল। অভিবাসীদের অনেকে দমনপীড়নের ভয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি এএনসি টেলিভিশনকে বলেন, ‘এসব আশ্রয়প্রার্থী শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ ও দায়বদ্ধ।’

তবে মুসলিম রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী অভিবাসীদের ফিলিপাইন কি ধরণের সহায়তা দেবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। অভিবাসীদের দুর্দশাকে মানবিক বিপর্যয় বলা হচ্ছে।

জোসে বলেন, ‘আমরা এখনও এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলতে পারছি না। আমরা শুধু মোটা দাগে আমাদের নীতির কথা বলছি।’

এএফপি জানায়, গত সপ্তাহে প্রায় ৩ হাজার অভিবাসী সাঁতার কেটে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের উপকূলে আসে বা তাদের উদ্ধার করা হয়। এছাড়া আরো কয়েক হাজার অভিবাসী খাবার ও পানি ছাড়া নৌকায় সাগরে ভাসছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড অভিবাসীদের বহনকারী কিছু নৌকা ফের সমুদ্রে ঠেলে দেয়ায় আন্তর্জাতিক বিশ্ব ব্যাপক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। থাই সরকারের অভিযানের পর মানব পাচারকারীরা তাদেরকে সমুদ্রে ফেলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতির উল্লেখ করে জোসে বলেন, ১৯৭০’র দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের শেষে দেশটির শরণার্থীদেরও গ্রহণ করেছিল ফিলিপাইন।

সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী, ভিয়েতনামের প্রায় ৪ লাখ শরণার্থী ফিলিপাইনের বিভিন্ন শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিল এবং পরে তাদের অন্যান্য দেশে পাঠানো হয়।

প্রেসিডেন্ট বেনিগনো অ্যাকুইনোর মুখপাত্র হারমিনিও কলোমা বলেন, শরণার্থীদের সহায়তা করতে ফিলিপাইন প্রস্তুত। এ প্রসঙ্গে তিনি ক্যাথলিক ধর্মে থাকা ক্ষমা ও সহানুভূতির মূল্যবোধের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ক্যাথলিক সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব অভিবাসীদের সহায়তা করা।’

জেডআই