আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের কারণে প্রায় দুই লাখ লোককে সরিয়ে নিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার দেশটির জাভা প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত মাউন্ট কেলুদ নামের আগ্নেয়গিরিটি সক্রিয় হয়ে উঠে। খবর আনতারা নিউজ ও বিবিসির।
আগ্নেয়গিরি থেকে উৎক্ষিপ্ত ছাইয়ে আশপাশের বিশাল এলাকাজুড়ে দেখা দিয়েছে ভয় ও আতংক। আগ্নেয়গিরি থেকে ১৩০ কিলোমিটার দূরের শহর সুরাবায়ার আকাশও ছাইয়ে ঢেকে গেছে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201402/1392361640.jpg[/img]
এ ছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি শহর ছাইয়ে ঢেকে গেছে। কয়েকটি শহরে ৪ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ছাইয়ের আস্তরণ জমেছে।
এদিকে আগ্নেয়গিরিটির আশপাশের ৩৬টি গ্রাম থেকে কমপক্ষে ২ লক্ষ লোককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গ্রামগুলো আগ্নেয়গিরির চারপাশে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে সব লোক বাড়িঘর ছেড়েছেন কি না তা নিশ্চিত হতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। কেননা শুক্রবার সকালেও অনেকেই কাপড়-চোপড় ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার জন্য তাদের বাড়িতে থেকে গেছেন।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201402/1392361663.jpg[/img]
আকাশে মাত্রাতিরিক্ত ছাইয়ের কারণে সুরাবায়া, সুলু ও ইয়ুগইয়াকার্তা শহরের তিনটি বিমানবন্দর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিমানের ইঞ্জিনে ছাই ঢুকে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এই আশঙ্কায় বিমানবন্দরগুলো বন্ধ করা হয়েছে।
মাউন্ট কেলুদের অগ্নুৎপাতের ফলে এর আশপাশের এলাকায় গাড়িও চলাচল করতে পারছে না। রাস্তায় পরিষ্কার কিছুই দেখা যাচ্ছে না। এমনকি পথচারীরা রাস্তায় হেঁটেও চলতে পারছেন না।
উল্লেখ্য, মাউন্ট কেলুদ পর্বতটি পূর্ব জাভার কেদিরি এলাকায়া অবস্থিত। পর্বতটির উচ্চতা দেড় কিলোমিটারেরও বেশি। মাউন্ট কেলুদে সর্বশেষ উদগিরণ হয় ১৯৯০ সালে। সে সময় কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়। এর আগে ১৯১‌৯ সালে অগ্নুৎপাতে কমপক্ষে ৫ হাজার মানুষ নিহত হয়।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201402/1392361680.jpg[/img]
উল্লেখ্য, ভূস্তরের গঠন অনুযায়ী ইন্দোনেশিয়া কয়েকটি ফাটল রেখার উপর অবস্থিত। এ কারণে দেশটিতে ঘন ঘন ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত হয়ে থাকে। দেশটিতে রয়েছে প্রায় ১৩০টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। চলতি মাসের শুরুতে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে অবস্থিত মাউন্ট সিনাবুং নামের অপর একটি আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়। সূত্র: বিবিসি ও আনতারা নিউজ
ঢাকা, ১৪ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)//এমএ