বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ব্যাপারে রাশিয়া কোন ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার লিকোলায়েভ।

রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬) জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে "ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ" (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশের যে কোন কার্যকর সরকারের সাথেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করতে রাশিয়া প্রস্তুত বলেও জানান রাষ্ট্রদূত।

বিগত ৫ জানুয়ারি ২০১৪-এর একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসলে এ নিয়ে পৃথিবীর নানা দেশ ও সংস্থা থেকে উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দেয়া হলেও রাশিয়া কোন বিবৃতি দেয়নি, তাই আগামীতে যে কোন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার পাশে রাশিয়া থাকবে কিনা-সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ কেন কোন দেশেরই অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করবে না রাশিয়া।

কে কখন ক্ষমতায় আসবে তা একান্তভাবেই বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়-এমন ইঙ্গিত দিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, যে কোন কার্যকর (effective) সরকারের সাথেই রাশিয়া কাজ করতে প্রস্তুত।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য রয়েছে। এমনকি এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ারও সমর্থন রয়েছে।

রূপপুরে দেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য গত ডিসেম্বরে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সরকার। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২৬৫ কোটি ডলার বা ১ লাখ এক হাজার কোটি টাকা।

রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার বলেন, তিন বছর আগে খালেদা জিয়ার সঙ্গে এক সাক্ষাতে তিনি জানিয়েছিলেন, রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বিএনপি উদ্যোগ নিয়েছিল। এর অর্থ হলো, বিএনপি ও খালেদা জিয়ার এ বিষয়ে সমর্থন রয়েছে।

তিনি বলেন, এ প্রকল্প নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে ভয় কাজ করছে তা মূলত অজ্ঞতার কারণেই। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানলে আশা করি, এ ভয় দূর হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের প্রধান বিবেচ্য বিষয় অ্যানার্জি সেক্টরের উন্নয়ন, সন্ত্রাসবাদ নয়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের আর্মস ফোর্স বিভাগের কর্মকর্তারা রাশিয়া থেকে আরও অস্ত্র কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে এটি দুই দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনার বিষয়। বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পেলে রাশিয়া বিষয়টি বিবেচনা করবে।

সম্প্রতি সিরিয়ায় শান্তি প্রক্রিয়া শুরু এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একযোগে এই প্রক্রিয়া শুরু করাকে একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে রাশিয়া তার এই অবস্থান অব্যাহত রাখবে।

সৌদি সামরিক জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভূক্তির বিষয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে রুশ রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ এই জোটে যোগ দিলে কোন সামরিক পদক্ষেপে সেনা পাঠাতে হলে তা জাতিসংঘের অধীনেই করতে হবে। কাজেই এ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ডিক্যাব সভাপতি আঙুর নাহার মন্টি, সাধারণ সম্পাদক পান্থ রহমান প্রমুখ।

কেবি/জেএইচ