ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঙ্গলবার ইসরাইলে পৌঁছেছেন। এটা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রথম ইসরাইল সফর।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও অন্যান্য কর্মকর্তারা মোদিকে তেল আবিবের কাছে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান।

এই প্রথম ইসরাইল সফরে গেছেন ভারতের কোনো প্রধানমন্ত্রী।

মোদির ঐতিহাসিক এ সফর ঘিরে ইসরায়েলে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং মোদিকে ‘বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও পোপদের যেভাবে অভ্যর্থনা জানানো হয়, সেভাবেই মোদিকে বরণ করেছে তারা।

নেতানিয়াহু ও তার মন্ত্রিসভার সব সদস্য মোদিকে স্বাগত জানান, যা ইসরায়েল সফরে আসা কোনো রাষ্ট্র বা সরকার-প্রধানের জন্য বিরল সম্মান দেখানোর নজির।

ইসরায়েলে পৌঁছানোর পর এক বিবৃতিতে ৪১ বছর আগে নেতানিয়াহুর ভাইয়ের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন মোদি। তিনি বলেন, ‘আজ ৪ জুলাই, এখন থেকে ঠিক ৪১ বছর আগে অপারেশন এনটেবে-তে এই দিনে আপনাদের প্রধানমন্ত্রী ও আমার বন্ধু বিবি (নেতানিয়াহু) তার বড় ভাইকে হারিয়েছিলেন, যিনি বহু জিম্মির জীবন বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আপনাদের বীরেরা নতুন প্রজন্মের উৎসাহ।’

১৯৭৬ সালের ৪ জুলাই উগান্ডার এনটেবে বিমানবন্দরে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর হাতে ছিনতাই হওয়ায় একটি বিমানের ৯৬ জন ইসরায়েলি নাগরিককে বাঁচাতে অভিযানে নেতৃত্ব দেন নেতানিয়াহুর বড় ভাই লেফটেন্যান্ট ইয়োনাতান নেতানিয়াহু। ওই অভিযানে তিনি নিহত হন।

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় ইসরায়েল পৌঁছান মোদি ও তার সফর সঙ্গীরা। স্বাগত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছি, প্রায় ৭০ বছর ধরে।

কিন্তু এই প্রথম ভারতের কোনো প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েল সফরে এলেন... আমরা ভারতকে ভালোবাসি, আপনাদের সংস্কৃতি ও গণতন্ত্রের প্রশংসা করি আমরা।’
জেড

মোদির এ সফরে বড় কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে প্রযুক্তি, ইলেক্ট্রনিক খাত ও কৃষিখাতে কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।

মোদির এ সফরে দুই দেশের মধ্যে বড় কোনো চুক্তি না হলেও প্রতীকী অর্থে এ সফরকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ইসরায়েল। তিন দিনের অধিকাংশ অনুষ্ঠানে মোদির সঙ্গে থাকবেন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার দেশে ফিরবেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।
জেড