পারস্পরিক সম্পর্ক ও সক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষ্যে পঞ্চমবারের মতো বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর সর্ববৃহৎ যৌথ নৌ-মহড়া এক্সারসাইজ কো-অপারেশন এফ্লোট রেডিনেস এ্যান্ড ট্রেনিং (ক্যারাট-২০১৫) বঙ্গোপসাগরে শুরু হয়েছে।
মহড়া বুধবার থেকে চট্টগ্রামে শুরু হয়ে চলবে রবিবার পর্যন্ত। দুই পর্বে ক্যারাট-১৫ অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম পর্বে ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পোতাশ্রয় পর্ব এবং ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে সমুদ্র পর্ব।
ক্যারাট ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো সমুদ্রতীর নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সঙ্গে অনুশীলনে অংশ নিচ্ছে।
চট্টগ্রামে বিএনএস ঈশাখাঁ নৌ-ঘাঁটিতে বুধবার সকালে যৌথ মহাড়ার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর কমান্ডার লজিস্টিক গ্রুপ ওয়েস্টার্ন প্যাসিফিক এ্যান্ড টাস্কফোর্স রিয়ার এ্যাডমিরাল উরিয়াস চার্লস।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার এ্যাডমিরাল আকতার হাবিব এনডি এনজিপি, এনডিসি, এনসিসি পিএসসি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি রিয়ার এ্যাডমিরাল উলিয়াস চার্লস বলেন, ‘প্রতি বছর আমরা বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর কার্যক্রম, সরঞ্জাম ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরও পরিচিত হই। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা একসঙ্গে কাজ করি, জ্ঞান বিনিময় ও একে অপরের কাছ থেকে শিখতে পারি।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি রিয়ার এ্যাডমিরাল আকতার হাবিব বলেন, ‘এই মহড়ায় দুই দেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পেশাগত দক্ষতা অনেক বৃদ্ধি পাবে।’
যৌথ এ মহড়ার আওতায় বিভিন্ন নৌ-কৌশল, সমুদ্রে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদান, সমর আইনের ব্যবহার এবং মেরিটাইম পেট্রল এয়ারক্রাফট ও হেলিকপ্টার পরিচালনার ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে।
নৌবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর এই নৌ-মহড়া হয়ে আসছে ২০১১ সাল থেকে। তারা মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এ ধরনের নৌ-মহড়া করে আসছে।
ক্যারাটে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সমুদ্রসীমা নিরাপত্তার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে, যেমন জলদস্যুতা রোধ, চোরাচালান রোধ, সমুদ্রে নিরাপত্তাজনিত তৎপরতা এবং বন্দর নিরাপত্তার অনুশীলন করা হয়।
এই ধারাবাহিক অনুশীলন এ উদ্ধারকাজ, সামরিক আইন ও চিকিৎসা এবং মানবিক সহায়তা/দুর্যোগে সাড়া দেওয়ার ওপর সর্বশেষ উৎকৃষ্ট উদাহরণগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।
ক্যারাট অনুশীলনে যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ফোর্ট ওয়ার্থ এবং ডুবুরি ও উদ্ধারকারী দলসহ ডুবুরি ও উদ্ধার জাহাজ ইউএসএনএস সেফগার্ড বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ও উড়োজাহাজের সঙ্গে অনুশীলনে অংশ নিচ্ছে।
একটি যুক্তরাষ্ট্রের সমুদ্রসীমা টহল উড়োজাহাজ ইউএস পি-৩ অরিওন ক্যারাট বাংলাদেশ অনুশীলনে অংশ নিচ্ছে। এর সঙ্গে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আটটি যুদ্ধজাহাজ, টহল হেলিকপ্টার ও উড়োজাহাজ অংশগ্রহণ করছে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর টহল উড়োজাহাজ ডর্নিয়ার যুক্ত হয়ে নৌবিমান প্রশিক্ষণ উচ্চপর্যায়ে নিয়ে যাবে, যা যৌথ সমুদ্রসীমার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে বলে ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
২১তম বছরে এসে ক্যারাটে বর্তমানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ, ব্রুনাই, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও পূর্ব তিমুর। ক্যারাট বাংলাদেশের পর ক্যারাট ২০১৫ শেষ পর্ব অনুষ্ঠিত হবে নভেম্বরে ব্রুনাই ও কম্বোডিয়ায়।
এসএইচ





