সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় নতুন কর্মপন্থা নির্ধারণের ব্যাপারে একমত হয়েছেন উন্নত সাতটি দেশের সংগঠন জি-৭-এর নেতারা। গতকাল শুক্রবার ইতালির সিসিলি দ্বীপের তাওরমিনা শহরে বসে জি-৭ সম্মেলন। সেখানে এ অর্থনৈতিক জোটের নেতারা মূলত সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করছেন।
যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পর বৈশ্বিক নিরাপত্তার বিবেচনায় সন্ত্রাসবাদ ঠেকানোর কর্মপন্থা গুরুত্বসহকারে আলোচিত হচ্ছে। সিসিলিতে গতকাল জি-৭ দেশের নেতারা একটি নথিতে স্বাক্ষর করেছেন। এতে বলা হয়েছে, অনলাইনে উগ্রবাদী বিষয়বস্তু মোকাবিলা এবং তা সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ইন্টারনেট সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও বেশি করণীয় আছে।
তবে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অন্য দেশগুলোর নেতাদের মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী পাওলো জেনটিলোনি। তিনি বলেন, সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। কারণ, ট্রাম্প প্রশাসন এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান এখনো ঠিক করতে পারেনি।
শিল্পোন্নত সাত দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা, ইতালি ও জাপানের নেতারা দুই দিনের এই সম্মেলনে যোগ দেন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সম্পাদিত প্যারিস চুক্তি অনুমোদনের জন্য জোটের অন্য নেতারা ট্রাম্পকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মার্কিন প্রশাসন থেকে গতকাল পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসেনি। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার চালানোর সময় প্যারিস চুক্তির বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন।
ম্যানচেস্টারে আত্মঘাতী বোমা হামলায় শিশুসহ ২২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাজ্যের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে জোটের সম্মেলনে।
এদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্মেলনের একপর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। সেখানে ব্রেক্সিট নিয়ে যুক্তরাজ্য এবং ইইউর মধ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে মতভিন্নতা হয়।
এ ছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্প ও থেরেসা মে ব্রেক্সিট-পরবর্তী চুক্তিসহ পুরো বাণিজ্য ব্যবস্থায় গতি আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়া সমস্যার সমাধান হবে। জি-৭ সম্মেলন শুরুর আগে জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে পার্শ্ববৈঠকে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।
আন্তর্জাতিক নিষেধ উপেক্ষা করে উত্তর কোরিয়ার একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার বিষয়টি এবারের সম্মেলনে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার এমন কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান বড় ধরনের হুমকির মুখে আছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন তাঁর হামলার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত বিস্তারের হুমকি দিয়ে থাকেন। তাঁকে ট্রাম্প ‘পারমাণবিক অস্ত্রধারী পাগল’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এবারের সম্মেলনে আমরা অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারটা অবশ্যই সেগুলোর মধ্যে থাকবে। এটা বড় সমস্যা, বৈশ্বিক সমস্যা। এটার সমাধান হবেই, আপনারা বাজি ধরতে পারেন।’
ট্রাম্প, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মেসহ জোটের চার নেতা প্রথমবারের মতো একই টেবিলে আলোচনায় বসলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাউন্সিল-প্রধান ডোনাল্ড টাস্কও এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। তিনি ইইউর প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন দেখে গতকাল বিস্ময় জানিয়ে বলেন, এটা ইতিবাচক।
সূত্র: বিবিসি
জারিফ





