ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়া যে সেনা সমাবেশ করেছে তার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর ইউরোপীয় কমান্ডার। জেনারেল ফিলিপ ব্রিডলাভ বলেছেন, মোলদোভার ট্রান্স-ডাইনেস্টার অঞ্চল নিয়ে ন্যাটোর বিশেষ উদ্বেগ রয়েছে।
ট্রান্স-ডাইনেস্টার হচ্ছে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত এবং ডাইনেস্টার নদীর মধ্যবর্তী একটি সরু উপত্যকা। ১৯৯০ সালে এটি মোলদোভা থেকে একতরফাভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
ওদিকে রাশিয়া বলেছে, ইউক্রেনের পূর্ব সীমান্তে দেশটি আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই সেনা সমাবেশ করেছে। ইউক্রেনের রুশপন্থী প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাচ্যুতির জের ধরে রুশ ফেডারেশনে ক্রিমিয়ার অন্তর্ভূক্তির পরিপ্রেক্ষিতে এ সেনা সমাবেশ করেছে রাশিয়া।
ক্রিমিয়ায় অনুষ্ঠিত এক গণভোটে ওই প্রজাতন্ত্রের প্রায় ৯৭% মানুষ রাশিয়ায় একীভূত হয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দিলে এটি ইউক্রেনকে ছেড়ে রাশিয়ায় যোগ দেয়। ইউক্রেনের পাশ্চাত্যপন্থী অন্তর্বর্তী সরকারের পাশাপাশি আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন গোটা প্রক্রিয়াকে ‘অবৈধ’ বলে প্রত্যাখ্যান করে।
রাশিয়ার বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, বর্তমানে ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের ১৮৯টি ঘাঁটি ও সেনাচৌকিতে রুশ পতাকা উড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্লাদিমির চিযোভ বলেছেন, রাশিয়ায় ক্রিমিয়ার ‘পুনঃএকত্রীকরণ’ পূর্ব-পরিকল্পিত কোনো বিষয় ছিল না বরং গত ৬০ বছর ধরে এ বিষয়ে যে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছিল তার অবসান হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘মূল্য দিতে হয়’ এমন কোনো কাজ মস্কো করেনি এবং রাশিয়াকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
রোববার ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের প্রধান অ্যান্দ্রি পারুবি রাজধানী কিয়েভের এক বিশাল সমাবেশে অভিযোগ করেন, “প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উদ্দেশ্য শুধু ক্রিমিয়া নয় তিনি সমস্ত ইউক্রেনকে দখল করতে চান। তিনি সীমান্ত সেনা সমাবেশ করেছেন এবং যেকোনো মুহূর্তে হামলা করে বসবেন।” ট্রান্স-ডাইনেস্টারের তিরাসপোলের একটি যুদ্ধ-স্মৃতিসৌধ; ন্যাটো মনে করছে, রাশিয়া এখানে যেকোনো মুহূর্তে হামলা চালাতে পারে।
[b]ঢাকা, ২৪ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম)// টিআই[/b]