ট্রেড ইউনিয়নের নেতারা দাবি করেছেন, এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন অন্তত ১০ লাখ মানুষ। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লাখ। বিক্ষোভ ঠেকাতে দেশজুড়ে প্রায় ৮০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্যারিস, লিওন ও নানতেসে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস ও লাঠিচার্জ চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিক্ষোভের কারণে ভেঙে পড়েছে পরিবহন ব্যবস্থা। রাজধানীমুখী অধিকাংশ মেট্রো বন্ধ, অসংখ্য সড়ক অবরুদ্ধ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এমনকি ওষুধের দোকানের ৯৮ শতাংশ বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।
এ পর্যন্ত তিন শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
ফ্রান্স সরকার ঋণের চাপ সামলাতে চলতি মাসের শুরুতে বাজেটের কল্যাণমূলক খাতসহ নানা ক্ষেত্রে বরাদ্দ কমিয়েছিল। প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলার কমানো হয় রাষ্ট্রীয় ব্যয় থেকে। এই পদক্ষেপের বিরোধিতায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বায়রো। গত ৯ সেপ্টেম্বর আস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে তিনি পদত্যাগ করেন এবং নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন সেবাস্তিয়ান লেকর্নিও।
তবে বায়রোর সময়ে ঘোষিত বাজেট কাটছাঁট এখনো বহাল রয়েছে। শপথ নেওয়ার এক সপ্তাহ পরও নতুন সরকার এ সিদ্ধান্ত বাতিল না করায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আইটি কর্মী সিরিয়েল জানান, তিনি ম্যাক্রোঁর অর্থনৈতিক নীতি বা বায়রোর বাজেট সমর্থন করেন না। তার দাবি, সংস্কৃতি ও গণপরিষেবা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে এবং ধনীদের ওপর আরও বেশি কর আরোপ করতে হবে।
ট্রেড ইউনিয়নের ঐক্যজোট জেনারেল কনফেডারেশন অব লেবার (সিজিটি)-এর নেতা সোফি বিনেট বলেন, “আমরা লড়াই চালিয়ে যাব, আন্দোলন আরও তীব্র হবে। সরকারের ধনীকেন্দ্রিক নীতি বন্ধ করতেই হবে।”
অন্যদিকে, বিদায়ী সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রেশিলি জানান, বাজেট কাটছাঁটের সিদ্ধান্তে পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই। তার মতে, “যত দ্রুত বিক্ষোভকারীরা সড়ক ছাড়বে, তত দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। অন্যথায় গ্রেপ্তার বাড়বে।”
এদিকে বামপন্থি জোট লা ফ্রঁস আনসুমিজ (এলএফআই) সরকারের কঠোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেছে, এর পরিণতি হতে পারে “ভয়াবহ”।
এনএইচ