মার্কিন- ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি তার প্রতিদিনের রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত মার্চ মাসে তার নিয়োগকর্তা রুশ পরিবারটি হঠাৎ দুবাই ছেড়ে চলে যাওয়ায় তিনি কর্মহীন হয়ে পড়েন এবং চার মাস ধরে চেষ্টা করেও কোনো কাজ পাচ্ছেন না ।

কয়েক দশক ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাই মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও আফ্রিকার লাখো মানুষের কাছে কর্মসংস্থানের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। দুবাই অভিবাসীদের কাছে সুযোগ ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল, যেখানে জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশই বিদেশি নাগরিক। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রভাবে, বিশেষ করে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে শহরটির অর্থনীতি—যা মূলত পর্যটন ও বিমান চালনার ওপর নির্ভরশীল—ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ধনী বিদেশি শহর ছেড়ে পালিয়েছেন এবং স্বল্প ও মধ্যম আয়ের অভিবাসী শ্রমিকরা চাকরি হারানো বা বেতন হ্রাসের সম্মুখীন হচ্ছেন।

শহরের শ্রমজীবী এলাকাগুলোতে শ্রমিকদের জীবনসংগ্রাম স্পষ্ট দেখা গেলেও, দেশটির অর্থনৈতিক ক্ষতির খুব কম তথ্যই প্রকাশ করছে সরকার।

আমিরাতের অর্থনীতি ও পর্যটন মন্ত্রী আব্দুল্লাহ বিন তৌক আল-মাররি এই পরিস্থিতিকে কেবল একটি সাময়িক বিঘ্ন হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং দুবাইয়ের স্থিতিস্থাপকতার ওপর জোর দিয়েছেন।

তবে সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে এই যুদ্ধের প্রভাব অত্যন্ত প্রকট । ভারতীয় হিসাবরক্ষক মুজিব রহমান জানান, ব্যবসায়িক মন্দার কারণে নগদ অর্থের অভাব দেখা দেওয়ায় তাকে এবং তার সব সহকর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। তিনি আশঙ্কা করছেন যে, বর্তমানে অনেক কোম্পানি নিয়োগ বন্ধ করে দেওয়ায় নতুন কাজ পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হবে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে, তবুও যুদ্ধের শঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। ম্যানপাওয়ারগ্রুপের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতি চারজন নিয়োগকর্তার মধ্যে একজন ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে কর্মী ছাঁটাই করার পরিকল্পনা করছেন। অনেক ক্ষেত্রে যারা চাকরি টিকিয়ে রেখেছেন, তাদের বেতন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেমন মিশরীয় বিক্রেতা জেকরা এলসা জানান, পর্যটক কমে যাওয়ায় তার দৈনিক বিক্রি অনেক কমে গেছে এবং তাকে এখন কেবল কমিশনের ভিত্তিতে কাজ করতে হচ্ছে।

দুবাই ইনভেস্টমেন্টসের সিইও খালিদ জসিম মোহামেদ বিন কালবান মনে করেন এই মন্দা সাময়িক, কারণ দুবাইয়ের অতীতেও সংকট কাটিয়ে ওঠার রেকর্ড রয়েছে। তবে এই পরিস্থিতির প্রভাব সুদূরপ্রসারী, কারণ দুবাই বিশ্বের অন্যতম বড় রেমিট্যান্স উৎস।

ভারতীয় হাউসকিপার ভেনকাট এবং ফিলিপিনো কর্মী জয় ভিভান্দার মতো অনেকেরই সন্তানদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ এখন হুমকির মুখে, কারণ তারা তাদের উপার্জিত অর্থ নিজ দেশে পাঠাতে পারছেন না ।

একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ক্যামেরুনের ওয়েল্ডার ইয়ানিক ওবিও। তার চাকরি থাকলেও নতুন কাজের অর্ডার না থাকায় যে কোনো সময় ছাঁটাই হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন তিনি।

তার কথায়, আমি প্রতিদিন কাজে যাই, কিন্তু করার মতো কোনো কাজই নেই।

সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।

এমএম