আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর মহাপরিচালক উইলিয়াম লেসি সুইং বলেছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নৃশংস নির্যাতন ও দমন পীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রতি সমর্থন জানাতে গোটা বিশ্বকে এগিয়ে আসতে হবে।
মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) মিয়ানমার এবং বাংলাদেশে এক সপ্তাহের সফর শেষ করে সুয়িং এইসব কথা বলেন।
আইওএম’র মহাপরিচালক বলেন, যে সকল রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে অবস্থিত কক্সবাজার জেলায় অস্থায়ী শিবিরে বসবাস করছে তারা খারাপ আবহাওয়া এবং অর্থের অভাব এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যত-এই ত্রিমুখী সমস্যা মোকাবেলা করছেন।
সুয়িং আরও বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানরা এমন এক জাতিতে পরিণত হয়েছে যাদের কোনো ভবিষ্যত নেই এবং যারা বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত ও নিগৃহীত জাতি গোষ্ঠীতে পরিণত হতে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারের বিচার দাবি আইএইচআরসি’র
বর্তমানে কক্সবাজারে ৯ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রচণ্ড প্রতিকূল আবহাওয়ায় বসবাস করছেন যেখানে প্রায় প্রতিদিন মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে এবং যেকোনো মুহূর্তে পাহাড় ধ্বসের কবলে পড়তে পারে।
আইওএম প্রধান রোহিঙ্গা ইস্যুতে জোরালো ভূমিকা পালনের জন্য আন্তর্জাতিক সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। কারণ এটি করতে ব্যর্থ হলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এই মুসলিম জাতির জীবনে চরম বিপর্যয় নেমে আসবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনী ও উগ্র-বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর ধর্ষণ-গণহত্যা-অগ্নিসংযোগ শুরু করলে সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে মুসলমানরা।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী- গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ৬ লাখ ৮০ হাজার। তার আগে বিভিন্ন সময় সেনাবাহিনী ও উগ্র-বৌদ্ধদের নির্যাতনে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়ে আছে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা।
গত বুধবার (১১ জুলাই) বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ১১ লাখ ১৮ হাজার ৫৭৬ জন।
এমবি





