তিউনিশিয়ায় গতকালের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩-এ। গতকাল বুধবার দেশটির রাজধানী তিউনিসে পার্লামেন্ট ভবন সংলগ্ন বারদো মিউজিয়ামে হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। মূলত বিদেশি পর্যটকদের লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়। খবর বিবিসির।

নিহতদের মধ্যে ৫ জন জাপানের নাগরিক, যদিও জাপান সরকার ৩ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া চারজন ইটালির, ২ জন কলম্বিয়ার, ২ জন স্পেনের, একজন করে ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও পোল্যান্ডের নাগরিক রয়েছেন। নিহত একজনের জাতীয়তা শনাক্ত করা যায়নি। তাছাড়া তিউনিশীয় রয়েছেন ৩ জন, এর মধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন। এ ছাড়া, নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা হামলায় হামলাকারী দুই বন্দুকধারীও নিহত হয়েছেন।

হামলাকারী একজনকে দেশটির সরকারি কর্তপক্ষ চিনতেন বলে জানা গেছে। ইয়াসিন লাবিদি নামের এই হামলাকারী অবশ্য কোন সশস্ত্র গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত তা জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। হামলাকারী দুইজনই তিউনিশিয়ার নাগরিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। আরেকজন হামলাকারীর নাম বলা হয়েছে হাতেম খাছনাওই।

১৫ শতকে নির্মিত বারদো মিউজিয়াম হচ্ছে তিউনিশিয়ার বৃহত্তম মিউজিয়াম। রাজধানী তিউনিসের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট হচ্ছে এই বারদো মিউজিয়াম। মিউজিয়ামটির বিভিন্ন সংগ্রহের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার চিত্রকর্ম অন্যতম উল্লেখযোগ্য। রোমান সাম্রাজ্যের মোজাইকের অনেক নিদর্শন এই মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে।

মিউজিয়ামের কিছু নিদর্শন প্রায় ৪০ হাজার বছরের পুরনো। ২০০৯ সালে মিউজিয়ামটির সংস্কার করে এর আয়তন প্রায় দ্বিগুণ বাড়ানো হয়।

দেশটির একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, বন্দুকধারীরা পার্লামেন্টে হামলা করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেখানে পুলিশ দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার পর তারা মিউজিয়ামে হামলা চালান। তবে, বিবৃতিতে গোষ্ঠীটির নাম বলা হয়নি।

হামলার প্রতিবাদে তিউনিশীয়রা রাজধানীতে পতাকা নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। অনেকে মিউজিয়ামের সামনে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেন। এদিকে, নিরাপত্তা বাহিনী মিউজিয়ামটিকে ঘিরে রেখেছে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।

এমএ