দীর্ঘ ছয় মাস পর বাংলাদেশে পেয়াজ রফতানিতে ৩শ ডলার কমিয়েছে ভারত। ৭০৫ ডলার থেকে কমিয়ে ৪শ ডলারে পেয়াজ রফতানির নিদের্শনা দিয়েছে ভারত। এর আগে সেদেশের (নাফেড)আন্তর্জাতিক বানিজ্য নীতিকে উপেক্ষা করে কয়েক দফায় পেয়াজের রফতানি মূল্য বাড়ায় ভারত।
ভারতের বাজারে পেয়াজের দাম কমাতে ও জোগান বাড়ানোর দূর্বল অজুহাতে গত ২৬জুন ভারতের কেন্দ্রিয় সরকার হঠাৎ করে প্রতিটন পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য ৪২৫ মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৭০০ডলার করে। অতিরিক্ত ২৭৫ মার্কিন ডলার বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ায় বাংলাদেশে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। ফলে বাংলাদেশে প্রতিকেজি পেয়াজের ক্রয় মূল্য ৫৫টাকা ৩০পয়সা হওযায় পেয়াজ আমদানিতে অনাগ্রহ দেখায় আমদানি কারকরা।
খুলনার আমদানি কারক হামিদ এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী আব্দুল হামিদ ও সিএন্ডএফ প্রতিনিধি মিন্নু রহমান জানান, শুক্রবার ভারতের ‘ন্যাশনাল এগ্রিকালচার কো-অপারেটিভ মার্কেটিং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (ন্যাফেড)’ প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য ৩শ মার্কিন ডলার কমিয়েছে। ছয় মাস আগে ৪২৫ মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৭০৫মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে ভারত।
বাংলাদেশে পেঁয়াজের চাহিদা বেশি থাকায় ভারতের ঔ সিদ্ধান্তে বাংলাদেশে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পড়ে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
ভারতের পেট্টাপোল বন্দরের আমদানি কারক জেএল গাডওযার এর পরিচালক টিংকু মন্ডল বলেন, প্রতি মেঃ টন পেয়াজের রফতারি মূল্য ৩শ ডলার কমানো হয়েছে। ফলে বেনাপোল পেট্টাপোল ও হিলি ভোমরা সহ বিভিন্ন শুল্ক ষ্টেশন দিয়ে পেয়াজ রফতানি বাড়বে বহুগুন।
বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন,“চার’শ পঁচিশ” ডলার মূল্যে ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের বন্দরেই প্রতি কেজির দাম প্রকার ভেদে ৩০/৩৫ টাকা পড়েছিল। সাত’শ ডলার মূল্যে আমদানি করলে কেজিপ্রতি দাম পড়ে ৫৭ থেকে ৬০ টাকা। ভারত তিনশ ডলার পেয়াজের মুল্য কমানোর ফলে পেয়াজের দাম অনেক কমে যাবে বলে জানান তিনি। বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজের দাম ছিল অস্থিতিশীল। এখন দেশি পেঁয়াজের বাজার স্থতিশীল হয়ে আসবে বলে জানান তিনি।
ভারতের পেট্রাপোল বন্দর ক্লিয়ারিং এ্যান্ড ফরোয়াড়িং স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্ত্তিক চক্রবর্তী বলেন, ভারতে পেঁয়াজের সঙ্কট চলছিল। দক্ষিণ ভারতের নতুন পেঁয়াজের আগমনও পেঁয়াজের মূল্য কমাতে পারেনি। নতুন মূল্যে পেঁয়াজ রপ্তানির নির্দেশনা দিয়ে বার্তা কোলকাতা থেকে পেট্রাপোল এলসি স্টেশনে পৌঁছানোই রফতানিকারকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে নিশ্চিত করেছেন কার্ত্তিক চক্রবর্তী।
এমএম





