জম্মু-কাশ্মিরের ভয়াবহ বন্যায় সাধারণ মানুষের সাথে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। সেনাবাহিনীর অনেক ক্যাম্পে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় ডুবিয়ে দিয়েছে বহু আগ্নেয়াস্ত্র এবং গোলাগুলি। অস্ত্রশস্ত্র ফেলে রেখে কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে নিরাপদ জায়গায় চলে আসতে হয়েছে তাঁদের। অন্যদিকে বন্যার্তদের সাহায্য করতে গিয়েও ক্ষোভের মুখে পড়ছেন সেনা সদস্যরা।
সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ক্যাম্পে এখনো কয়েকশ’ এ কে-৪৭ রাইফেল, ইনসাস, এস এল আর তথা গোলাগুলি ডুবে রয়েছে পানির তলায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বোমা, গোলা এবং হ্যান্ড গ্রেনেডও। শ্রীনগরের গোগজিবাগের এক ক্যাম্পের সেনা কর্মকর্তা জানান, ‘রোববার প্রবল বেগে বন্যার পানি ঢুকতে শুরু করায় প্রায় ৪০০ সেনা কর্মীকে ক্যাম্প ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হয়। পানির তোড়ে ভেসে গেছে ২৬টি এ কে-৪৭ রাইফেল।’
সেনাবাহিনী অবশ্য ক্ষয়ক্ষতির কথা ভুলে ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধারের কাজ চালাচ্ছে। স্থলসেনার পাশাপাশি বিমানবাহিনীরও প্রায় ৮০টি হেলিকপ্টার এবং পণ্যবাহী আকাশযান কাজে লাগিয়েছে।
সাধারণ মানুষের পাথর ছোঁড়ার ফলে শনিবার শ্রীনগরে একটি বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিমানবাহিনীর মার্শাল এস বি দেও এই ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ বলেন, ‘কিছু ঝামেলাবাজ লোক ঘোলা পানিতে মাছ ধরার চেষ্টা করছে।’
এদিকে স্থানীয় মানুষের মধ্যে অভিযোগ উঠেছে- সেনারা পর্যটকদের উদ্ধারের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে বেশি। তাঁরা স্থানীয়দের কম গুরুত্ব দিচ্ছে। অনেক সময় হাত দেখালেও হেলিকপ্টার থেকে প্রয়োজনীয় সাহায্য আসছে না বলে তাঁদের অভিযোগ।
উল্লেখ্য, সেনা ও এনডিআরএফ-এর প্রচেষ্টায় এ পর্যন্ত এক লাখ ৪২ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহ বিএসএনএল কর্তৃপক্ষ বিনামূল্যে ফোন করার সুবিধা দিয়েছে জম্মু-কাশ্মিরের বন্যাকবলিত মানুষদের জন্য।
ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, টিআই





