পূর্ব ইউক্রেনে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্স-এর যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার স্থানটি পরিদর্শন করছেন তিনটি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদল।

ইউক্রেনের রুশপন্থী বিদ্রোহীদের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে - এমন আশংকার মধ্যে এলাকাটিতে এখন সরকারি বাহিনী এবং বিদ্রোহীদের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কিভাবে বিমানটি ভূপাতিত হলো তার একটি পূর্ণ তদন্ত এখন শুরু হতে হবে।

ইতিমধ্যে রুশপন্থী বিদ্রোহীরা বিমানটির ব্ল্যাকবক্সগুলো ফেরত দিয়েছে এবং নিহত যাত্রীদের মৃতদেহ ট্রেনে করে সরকারনিয়ন্ত্রিত খারকিফ শহরে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর আরো কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যাপারে আলোচনা করতে ইউরোপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ব্রাসেলসে বৈঠক করছেন।

নিহত যাত্রীদের মরদেহ যে খারকিফ শহরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেটি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকার বাইরে এবং কিয়েভ সরকারের দখলে। আন্তর্জাতিক চাপের কারণেই বিদ্রোহীরা শেষ পর্যন্ত এসব মৃতদেহ ইউক্রেন সরকারের হাতে তুলে দিলো। এসব মৃতদেহ চিহ্নিত করার জন্যে বুধবার নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নেদারল্যান্ডসে।

নিহত ২৯৮ জন যাত্রীর বেশিরভাগই ডাচ নাগরিক। মরদেহগুলোকে যেভাবে রাখা হয়েছিলো তাতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্স টিমারমান্স।

তিনি বলেন, "উদ্ধারকারীদেরকে তাদের কাজ করতে অনুমতি দিতে এতো সময় কেন লাগলো সেটা আমি আমার জীবনের শেষদিন পর্যন্ত বুঝতে পারব না।"

তিনি আরও বলেন, "বুঝতে পারছি না মানুষের মৃতদেহ নিয়ে কেন রাজনৈতিক দোষারোপের খেলা চলছে। এটা অত্যন্ত ঘৃণ্য একটি কাজ।"

ইউক্রেনসহ পশ্চিমা দেশগুলো বলছে, রাশিয়ার সরবরাহ করা ক্ষেপণাস্ত্রেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। আর রাশিয়া এজন্যে দায়ী করছে ইউক্রেনের সরকারি সৈন্যদের।

ওদিকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে রাশিয়ার ওপর আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে আলোচনা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ব্রাসেলসে বৈঠক করছেন।

তবে রাশিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আর প্রেসিডেন্ট পুতিন মস্কোতে রুশ নিরাপত্তা পরিষদের সাথে বৈঠক করেছেন। সূত্র: বিবিসি বাংলা

ঢাকা, ২২ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ