ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ আর নেই। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে রাজধানী নয়াদিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
বিজেপির সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগে আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন সুষমা। শিক্ষাজীবনে ছিলেন তুখোঁড় মেধাবী ছাত্রী। ১৯৫২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি হরিয়ানা প্রদেশের আম্বালা ক্যান্টনমেন্টে হরদেব শর্মা ও লক্ষ্মী দেবীর ঘরে জন্ম নেন সুষমা। বিয়ে স্বরাজ কৌশলকে। তিনিও ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী।
২০০৯ সাল থেকে ২০১০ পর্যন্ত তিনি পররাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারপার্সন ছিলেন। সাফল্যের কারণেই কিনা ২০১৪ সালের ২৬ মে তাকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। পাঁচ বছর সেই দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ইন্দিরা গান্ধীর পর সুষমা স্বরাজ দ্বিতীয় নারী যিনি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলেছেন।
সুষমা ৭ বার সংসদ সদস্য আর ৩ বার বিধানসভার সদস্য হয়েছেন। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি বিদিশা কেন্দ্র থেকে সাংসদ হন। এর আগে, ১৯৯৮ সালের ১৩ অক্টোবর দিল্লির পঞ্চম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন সুষমা। তিনিই ছিলেন দিল্লির প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী।
এর আগে, ১৯৭৩ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসাবে প্র্যাকটিস শুরু করেন সুষমা স্বরাজ। শিক্ষাজীবনেও তুখোঁড় মেধাবী ছিলেন সুষমা। পরপর ৩ বছর আম্বালা ক্যান্টনমেন্টের এস ডি কলেজে এন.সি.সি-র সেরা ক্যাডেটের সম্মান পান।
এছাড়াও, তিনি আম্বালা ক্যান্টনমেন্টের এস.ডি. কলেজে সেরা শিক্ষার্থীর পুরস্কার ও স্বর্ণপদকও জিতেছিলেন। ভালো বক্তা ছিলেন। পেয়েছিলেন পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা বক্তার সম্মানও। বর্ণাঢ্য জীবনের অবসান ঘটিয়ে মঙ্গলবার (৬ আগস্ট ২০১৯) রাতে ৬৭ বছর বয়সে মারা যান তিনি।
এদিকে, মৃত্যুর একদিন আগে সোমবার ভারতের রাজ্যসভায় কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা-সংক্রান্ত সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল হয়ে যাওয়ার পরপরই টুইটারে দেয়া এক টুইটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন সাবেক এই বিজেপি দলীয় মন্ত্রীর। টুইটারে সুষমা স্বরাজ বলেন, ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রী।
আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমার জীবদ্দশায় আজকের দিনটি দেখার অপেক্ষায় ছিলাম।
এএস





