ভিয়েতনাম থেকে চীনা নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব সরিয়ে নেয়ার জন্যই দেশটিতে পাঁচটি জাহাজ পাঠাচ্ছে চীন সরকার। ভিয়েতনাম এবং চীনের মধ্যকার বিবাদপূর্ণ সমুদ্রসীমায় চীনের একটি নতুন তেলকুপ খননের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে ভিয়েতনামে ব্যাপক দাঙ্গা শুরু হয়। এরই মধ্যে ভিয়েতনাম থেকে তিন হাজারেরও বেশী চীনা নাগরিককে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, সংকটজনক অবস্থায় ১৬ জন চীনা নাগরিক চার্টার্ড বিমানে করে ভিয়েতনাম থেকে সরে এসেছেন। দাঙ্গায় এখনো পর্যন্ত দু’জন চীনা শ্রমিক নিহত হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি বিদেশী মালিকানাধীন কারখানা ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। পাঁচটি জাহাজের মধ্যে প্রথমটি এরই মধ্যে চীনের হাইনান দ্বীপ থেকে রওয়ানা দিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। হাইনানের নৌ কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র ঝাং জি বলেছেন, জাহাজে তারা খুবই অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নাবিকদের পাঠাচ্ছেন। তিনি বলেন, “যোগ্য ক্যাপ্টেনের অধীনে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নাবিকদের আমরা পাঠাচ্ছি। জাহাজগুলোও সম্পূর্ণ নতুন এবং এই অভিযানের সাথে যুক্ত সবগুলো জাহাজের অবস্থা আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি।” ভিয়েতনাম সরকার শনিবার বিক্ষোভ বন্ধের আহ্বান জানায়। তবে বিভিন্ন বিক্ষোভকারী গোষ্ঠী রোববার হ্যানয় এবং হো চি মিন সিটিতে মিছিল করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানায়। একজন বিক্ষোভকারী ডাও মিন চাউ বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত হবে চীনের কার্যক্রমের নিন্দা জানানো। মিন চাও বলেন, “এরই মধ্যে চীনকে আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়ে যাবার জন্য সরকারের কাছে আমরা চিঠি দিয়েছি। আমরা আমাদের সরকারকে পরিষ্কারভাবে বলবো, চীনের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে যেকোন পদক্ষেপের সাথে আমরা আছি এবং সরকারও আমাদের ওপর ভরসা করতে পারে।” চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, দাঙ্গা দমনে হ্যানয় সরকার যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তবে রোববার রাজধানীতে চীনা দূতাবাসের আশেপাশের রাস্তায় পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। সেখানে যেকোন ধরণের জমায়েতের চেষ্টা ভেঙ্গে দেয়া হয়। সূত্র: বিবিসি বাংলা [b]ঢাকা, ১৮ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) //এমএ[/b]