কারাগারের বন্দিদেরকে খাদ্য ও চিকিৎসা দিবে সরকার- সারা বিশ্বে এমন নিয়মই চালু রয়েছে। কিন্তু এ নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটতে যাচ্ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যের একটি কারা কর্তৃপক্ষ বন্দিদের কাছ থেকে তাদের খাদ্য ও চিকিৎসা সেবার খরচ নেয়ার পরিকল্পনা করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করে বলেছে, এর মাধ্যমে বন্দিদের সঙ্গে চরম অমানবিক আচরণ করা হবে।
এলকো কাউন্টি কমিশন পুলিশ কর্মকর্তা জিম পিটসের এমন একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে যার ফলে প্রত্যেক বন্দীকে দৈনিক খাদ্য গ্রহণ বাবদ ছয় ডলার অর্থ পরিশোধ করতে হবে। এ ছাড়া, প্রতিবার ডাক্তার দেখাতে তাদেরকে গুণতে হবে ১০ ডলার এবং কারাগারে প্রবেশের সময় দিতে হবে পাঁচ ডলারের ফি।
জিম পিটস দাবি করেন, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বছরে কাউন্টির অধিবাসীদের লাখ লাখ ডলারের ট্যাক্সের অর্থ বেঁচে যাবে। তিনি বলেন, “আমরা কোনো সরকারি লঙ্গরখানা খুলে বসিনি যে, অপরাধীদের বিনা পয়সায় খাওয়া-পরা ও চিকিৎসা দিতে হবে।”
এলকো কাউন্টি কমিশনার গ্রান্ট গারবার বলেছেন, এলিকো কাউন্টির অধিবাসীরা কেনো কারাগারে আটক অপরাধীদের ভরণ-পোষণের খরচ বহন করবেন? আমেরিকার এই কাউন্টির নয়া পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, যেসব বন্দি কারগারে শ্রম দেবেন অথবা ২৪ ঘন্টার কম অবস্থান করবেন তাদেরকে কোনো বিল পরিশোধ করতে হবে না।
এদিকে আমেরিকার মানবাধিকার সংস্থা- আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের নির্বাহী পরিচালক নেভাদা টড সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বন্দিদের কাছ থেকে খাবারের জন্য অর্থ গ্রহণ করে এলিকো কাউন্টি আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখী হবে।
টড বলেন, কেউ যে এ ধরনের জঘন্য পরিকল্পনা করতে পারে তা আমি ভাবতেই পারি না। এটি অসাংবিধানিক, নিষ্ঠুর এবং নজীরবিহীন শাস্তি। টডের মতে, কারাগারে খাদ্য গ্রহণের জন্য অর্থ আদায় কোনো অবস্থায়ই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। যারা কারাগারে যায় তাদের জন্য সব ধরনের খরচ বহন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি,(টাইমনিউজবিডি)// টিআই