ইয়েমেনের ক্ষমতা দখলকারী শিয়া বিদ্রোহীগোষ্ঠী হুথিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলাসহ সামরিক অভিযান শুরু করেছে সৌদি আরব ও দেশটির মিত্র আঞ্চলিক জোট। বিমান হামলায় তিন হুথি কমান্ডার নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট হুথিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানোর পর এ অভিযান শুরু করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আবদেল আল-জুবায়ের বুধবার জানান ওই সামরিক অভিযানে উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিল (জিসিসি) ভুক্ত দেশসহ (কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহারাইন, ওমান ও কুয়েত) ১০টি দেশ অংশ নিয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় বিমান হামলার মাধ্যমে ওই অভিযান শুরু হয়।

জুবায়ের ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, ইয়েমেনের বৈধ সরকারকে রক্ষা ও সমর্থন দিতে এবং মৌলবাদী হুথি বিদ্রোহীদের হাতে দেশের ক্ষমতা চলে যাওয়া ঠেকাতে এ অভিযান চালানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ওই অভিযানের পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আলজাজিরার সংবাদদাতারা জানান, রাজধানী সানায় অবস্থিত বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রেণে থাকা প্রেসিডেন্ট ভবন, পুলিশ ও বিশেষ বাহিনীর হেডকোয়ার্টার লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ওই হামলায় আব্দুল খালেক বদ্দরউদ্দিন আল-হুথি, ইউসুফ আল মাদানি ও ইউসুফ আল-ফিসি নামের তিন হুথি কমান্ডার নিহত হয়েছে বলে খবরে বলা হয়েছে।

হুথি বিদ্রোহীরাও এক বিবৃতিতে সৌদি যুদ্ধবিমান সানার একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান চালানোর কথা নিশ্চিত করেছে। পাল্টা জবাব হিসেবে বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে ওই বিবৃতিতে জানানো হয়।

হুথি রাজনৈতিক দলের এক সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখতি এই সামরিক অভিযানকে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা বলে মন্তব্য করেছেন।

এদিকে, উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিলের দেশগুলোর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট ও জনগণকে রক্ষায় সব ধরণের সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানিয়েছে মিশর।
চলতি বছরের প্রথম দিকে হুথি বিদ্রোহীরা সানার প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ভবন দখল করে। বেশ কিছুদিন অবরুদ্ধ থাকার পর সুন্নি প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু আল-মনসুর হাদী পদত্যাগ করা সাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়। পরে তিনি ওই পদত্যাগের কথা অস্বীকার করেন। বর্তমানে বন্দর নগরী অ্যাডেন দখলের জন্য অগ্রসর হচ্ছে হুথিরা।

এর আগে হুথিদের রুখতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ঐক্যমতে পৌঁছায়। তথ্যসূত্র : আলজাজিরা,বিবিসি।

ইআর