কঠোর শর্তে ঋণ সহায়তার বিষয়ে গণভোটে নাগরিকদের 'না' ভোট বিজয়ী হওয়ার পরদিন গ্রিসকে আর্থিক সহায়তা বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে ইউরোজোনের প্রভাবশালী দুই দেশ জার্মানি ও ফ্রান্স।

তবে এ জন্য দ্রুত 'সিরিয়াস' প্রস্তাব নিয়ে গ্রিস সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মের্কেল ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ।

ফান্সের প্যারিসে এ বিষয়ে এক বৈঠকের পর মের্কেল ও ওঁলাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, একক মুদ্রা হিসেবে ইউরো ছেড়ে বের হয়ে যাওয়া ঠেকানো এবং দাতাদের সঙ্গে নতুন ভাবে আর্থিক চুক্তির জন্য এথেন্সকেই দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে বলে দুই নেতা তাগিদ দিয়েছেন।

বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ গণমাধ্যমকে বলেন, আলোচনার দরজা খোলা। আর্থিক পুর্নগঠনে 'সিরিয়াস' ও বিশ্বাসযোগ্য প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে এসে দীর্ঘমেয়াদে ইউরো জোনে থাকার ইচ্ছা এখন অ্যালেক্সিস সিপ্রাসের সরকারের ওপর নির্ভর করছে।

২০১০ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আইএমএফ থেকে দুটি বেইল আউটে প্রায় ২৪০ বিলিয়ন ইউরো নেয় গ্রিস। এই অর্থে চলতে থাকে দেশটি, যদিও তার জন্য নাগরিকদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ সময়ে পেনশন, বেতন ও সরকারি সেবায় কাটছাঁট হয় গ্রিসে।

নতুন করে সহায়তার জন্য (বেইল আউট) গ্রিসকে কর বাড়ানোর পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক ব্যয় কমানোসহ কঠিন আর্থিক পুনর্গঠনের শর্ত দেয় ইউরোজোন।

ইউরোজোনের সঙ্গে টানাপোড়েনে মধ্যে সংকট আরও ঘনীভূত হয়। সপ্তাহজুড়ে ব্যাংকগুলো বন্ধ রাখে সরকার, পাশাপাশি এটিএম বুথ থেকে দিনে ৬০ ইউরোর বেশি না তোলার বিধান জারি হয় গ্রিসে। আর্থিক পুনরুদ্ধারে (বেইল আউট) জন্য দাতাদের দেওয়া শর্তগুলো মর্যাদাহানিকর বলে সমালোচনা করে আসছিল গ্রিসের ক্ষমতাসীন বামপন্থি সিরিজা পার্টি।

এরপর রোববার এক গণভোটে গ্রিসের ৬১ শতাংশ নাগরিক কঠোর শর্তে দাতাদের কাছ থেকে ঋণ না নেওয়ার পক্ষে 'না' ভোটে মত দেন।  তবে ‘না’ ভোটের বিজয় গ্রিক ব্যাংকগুলোর তহবিল বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং তা গ্রিসকে একক মুদ্রা ইউরো থেকে বের হয়ে যাওয়ার পথে নিয়ে যাবে বলে সতর্ক করেছিলেন আন্তর্জাতিক দাতারা।

গ্রিসের গণভোটের অপ্রত্যাশিত ফলাফলে অপ্রস্তুত ফ্রান্স ও জার্মানি মঙ্গলবার ইউরো জোনের নেতাদের এক জরুরি বৈঠক ডাকে। ওই বৈঠকের আগে সোমবার জার্মান চ্যান্সেলর মের্কেল ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ওঁলাদ প্যারিসে ওই বৈঠকে মিলিত হন।

গণভোটে বিজয়ের পর ইউরোজোনের সঙ্গে গ্রিস সরকারের আলোচনায় গতি আনা এবং সমঝোতার পথ সুগম করতে গ্রিস সরকারকেও উদ্যোগী হতে দেখা যাচ্ছে।

এ লক্ষ্যে দেশটির অর্থমন্ত্রী ইয়ানিস ভারুফাকিস সোমবার পদত্যাগ করেন, যিনি অপ্রচলিত ধরনের কঠোর বক্তব্য-বিবৃতির মাধ্যমে ইউরো জোনের অংশীদারদের বিরাগভাজন হয়েছেন বলে মনে করা হয়।  গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালানো ভারুফাকিস গ্রিসের ঋণদাতাদের ‘সন্ত্রাসী’ বলে অভিহিত করেছিলেন। 

সোমবারই নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার বুঝে নিয়েছেন ইউক্লিড সাকালোতস, যিনি এর আগে ঋণ সহায়তা পেতে গ্রিসের পক্ষে দাতাদের সঙ্গে আলোচনার সমন্বয়ক হিসেবে কম বিতর্কিত স্টাইলের জন্য সমাদ্রিত হয়েছেন বলা হয়।

এক গ্রিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, সোমবারের বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাস মঙ্গলবার ইউরো জোনের শীর্ষ সম্মেলনে গ্রিস নতুন করে প্রস্তাব নিয়ে আসবে বলে জার্মান চ্যান্সেলরের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে নতুন প্রস্তাব আগের প্রস্তাবগুলো থেকে কোন দিকে কতটা ভিন্ন হবে এ বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পর জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মের্কেল বলেন, "ঋণ সংকটের বিষয়ে আমরা এখন গ্রিক প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আশা করছি; এমন একটা রুপরেখা যা গ্রিসকে সমৃদ্ধ অবস্থায় ফিরতে সহায়তা করবে।"

এএইচ