যুদ্ধাপরাধের দায়ে আমেরিকার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে মার্কিন সিনেটে। এর ফলে মার্কিন সিনেটের শুনানি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে সিনেটের আর্মড সার্ভিস কমিটির সামনে ৯১ বছর বয়সী কিসিঞ্জারসহ আরো দুই সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য দেয়ার চেষ্টা করলে এ বিক্ষোভ শুরু হয়। বিশ্বের চ্যালেঞ্জ এবং মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কৌশল নিয়ে এ শুনানি চলছিল। এতে অংশ নিয়েছিলেন, মার্কিন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ৯৯ বছর বয়সি জর্জ পি শুলজ এবং ৭৭ বছর বয়সি মেডেলিন অলব্রাইট।

যুদ্ধবিরোধী সংস্থা কোডপিংক এ বিক্ষোভের আয়োজন করে। সংস্থাটি ভিয়েতনাম যুদ্ধ ও চিলিতে মার্কিন মদদপুষ্ট সেনা অভ্যুত্থানের জন্য কিসিঞ্জারকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ঘোষণা করেছে।

মার্কিন সিনেটে বিক্ষোভ চলাকালে কোনো কোনো বিক্ষোভকারী যুদ্ধাপরাধের দায়ে কিসিঞ্জারের গ্রেফতার দাবি করে এবং তাকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ঘোষণা করে। এ সময়ে বিক্ষোভকারীরা যুদ্ধাপরাধী কিসিঞ্জার ও কম্বোডিয়া লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে কিসিঞ্জারের পেছনে অবস্থান নেয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিক্ষোভকারীদের সিনেট কক্ষ থেকে বের করে দেয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন আর্মড সার্ভিস কমিটির প্রধান রিপাবলিকান সিনেটের জন ম্যাককেইন। পরে এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, কিসিঞ্জারকে দৈহিক হুমকির মুখে ফেলেছিল কোডপিংক।

কিন্তু তার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন কোডপিংকের সহপ্রতিষ্ঠাতা মেডেয়া বেনঞ্জামিন। তিনি বলেন, সিনেটে বিক্ষোভকারীরা কখনোই সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য দৈহিক হুমকির কারণ হয়ে ওঠেনি। বরং কিসিঞ্জারকে তিনি তার ভাষায় খুনি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দৈহিক লাঞ্ছনার হুমকি দেয়ার সঙ্গে সত্যিকারভাবে কিসিঞ্জার জড়িত ছিলেন এবং তাকে এ পর্যন্ত কোনো জবাবদিহিই করতে হয়নি। সূত্র:আইআরআইবি

জেডআই