সিরিয়া ও ইরাকের পর এবার মিশরে হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ইসলামিক স্টেট বা আইএস। মিশরের সেনাবাহিনীকে ইসরাইলের রক্ষক বলে আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে আক্রমণের হুঁশিয়ারি দিল আইএস। আইএস সোমবার এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। আইএস-এর এ হুমকিতে মিশরের সেনাবাহিনীর মধ্যে শঙ্কা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মিশরের বিদ্রোহী কবলিত সিনাই উপত্যকায় সেনাবাহিনীর ওপর আক্রমণ বাড়ানোর জন্য সেখানকার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি আহ্বান জানায় আইএস। মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইএস-এর এ হুমকির বিষয়টি স্বীকার করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী আইএস-এর সঙ্গে বিদেশি অনেক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংযোগ রয়েছে। এসব গ্রুপের মধ্যে সিনাইয়েরও অন্তত একটি গ্রুপ রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র।

সোমবার আইএস সিনাইয়ে তাদের সহযোগী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে একটি বার্তা পাঠিয়েছে। বার্তাটি সিনাইয়ের ওই গোষ্ঠী তাদের অনলাইনে প্রকাশ করেছে। বার্তায় মিশরের সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে হামলা জোরদার ও তাদের শিরশ্ছেদের আহ্বান জানিয়েছে আইএস।

ইসলামিক স্টেটের মুখপাত্র আবু মুহাম্মদ আল-আদনানি ওই বার্তায় বলেন, "তারা (মিশরের সেনারা) যে রাস্তা দিয়ে চলে তা বিস্ফোরক দিয়ে ঢেকে রাখ। তাদের ক্যাম্পগুলোতে আক্রমণ জোরদার করো। তাদের বাড়িঘরে হামলা চালাও এবং মাথা কেটে দাও। তাদেরকে নিরাপদে থাকতে দিও না।"

আইএস-এর ওই মুখপাত্র মিশরের সেনা সদস্যদের ওপর হামলা চালানোর জন্য সিনাইয়ের সশস্ত্র গোষ্ঠী আনসার আল-মাকদিসে'র প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, "ইহুদিদের পাহারাদার সিসির যোদ্ধাদের (মিশরের সেনাবাহিনী) ওপর হামলাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।" মিশরের সাবেক সেনা প্রধান ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সেনাবাহিনীকে তিনি মিশরের নব্য ফেরাওন বলেও উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, সিনাইভিত্তিক আনসার আল-মাকদিস গত এক বছর ধরে হামলা চালিয়ে কয়েক'শ মিশরীয় সেনা ও নিরাপত্তা সদস্যকে হত্যা করেছে। এ ছাড়া গত কয়েক সপ্তাহে বেশ কয়েকজনের শিরশ্ছেদও করেছে তারা। শিরশ্ছেদের শিকার ব্যক্তিরা ইসরাইলের গুপ্তচর ছিল বলে দাবি করেছে আনসার আল-মাকদিস।

উল্লেখ্য, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মিশরের প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে গত বছর ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাবাহিনী। ক্ষমতায় আসে সেনা সমর্থিত একটি অস্থায়ী সরকার। এরপর অভ্যুত্থানকারী আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এক সময় সেনাপ্রধান থেকে ইস্তফা দিয়ে একতরফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হন। এখন তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আমেরিকা প্রথমে মিশরে গত এক বছর ধরে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় নীরবতা পালন করে। এক সময় সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে কিছুটা অব্স্থান নেয় আমেরিকা। কিন্তু সিসি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মিশরের সেনাবাহিনীর সঙ্গে আবারো সম্পর্ক তৈরি করে আমেরিকা। শুধু তাই নয়, মিশরের সেনাবাহিনীর জন্য স্থগিত করা বিভিন্ন সহায়তা পুনরায় চালুর সরবরাহের প্রক্রিয়াও শুরু করেছে পেন্টাগন। গত সপ্তাহে মিশরের সেনাবাহিনীকে ১০টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার দেয়ার ঘোষণা দেয় আমেরিকা। সূত্র: রয়টার্স

ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ