বোমা হামলার মাধ্যমে মিশরের সিনাই উপত্যকায় রাশিয়ার যাত্রীবাহী বিমান ধ্বংস করা হয়েছে -এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সিরিয়ায় আইএস সন্ত্রাসীদের ওপর হামলা জোরদার করেছে মস্কো। বুধবার সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন অবস্থানে প্রথমবারের মতো কৌশলগত বিমান দিয়ে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এর পাশাপাশি ভূমধ্যসাগর থেকে ওই দিন প্রথমবারের মতো রুশ নৌবহর থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা শুরুর আগে কাতারের কমান্ড সেন্টারের মাধ্যমে আমেরিকাকে সতর্ক বার্তা দেয় রাশিয়ার বাহিনী। উপায়হীন হয়ে আমেরিকা প্রতিপক্ষ রাশিয়ার নির্দেশনা মেনে চলতে বাধ্য হয়েছে। এদিকে, বাশার আসাদ প্রশ্নে ইরান ও রাশিয়া তাদের আগের অবস্থানে শুধু অনড়ই নেই বরং সে অবস্থান শক্ত করেছে। ফলে “গেম” সহজে শেষ হবে- এমন ধারণা করার সুযোগ কম।

নতুন কী কী বিমান ব্যবহার করল রাশিয়া: রাশিয়া তার ভাণ্ডারে দিনে দিনে যেসব অত্যাধুনিক বিমান জমা করেছে তার পরীক্ষাটা বোধ হয় সিরিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের ময়দানে সেরে নিচ্ছে। সর্বশেষ টিইউ-১৬০ এবং টিইউ-২২এম৩ কৌশলগত বিমান দিয়ে রাশিয়ার ভূখণ্ড থেকে সিরিয়ার সন্ত্রাসী অবস্থানে হামলা চালানো হয়। এর পাশাপাশি অভিযানে অংশ নেয় এসইউ-৩৪,এসইউ-২৫ এবং এসইউ-২৪এম বিমান। টিইউ-১৬০ “ব্ল্যাকজ্যাক” হচ্ছে দীর্ঘ পাল্লার বোমারু বিমান। এ বিমান মোতায়েন করা রয়েছে দক্ষিণ রাশিয়ার সারাতোভ শহরের এঞ্জেলস ঘাঁটিতে। অন্যদিকে, টিইউ-২২এম৩ “ব্যাকফায়ারস” এবং টিইউ-৯৫ “বিয়ারস” মোতায়েন করা রয়েছে রাশিয়ার উত্তর ককেশাসের মোজদোক ঘাঁটিতে। কৌশলগত এসব বোমারু বিমান রাশিয়ার মাটি থেকে বোমা-সজ্জিত হয়ে সিরিয়ার রাকা ও দেইর আজ-জোর প্রদেশের আইএস সন্ত্রাসীদের অবস্থানে আঘাত হানে। দূরপাল্লার কৌশলগত বিমানগুলো হামলায় ব্যবহার করেছে স্মার্ট বোমা ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র।

ভূমধ্যসাগর থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা: ভূমধ্যসাগরে অবস্থানরত রুশ নৌবহর থেকে বুধবার ১৬টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে। এতে আলেপ্পো ও ইদলিব প্রদেশে সন্ত্রাসীদের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়। এর আগে কাস্পিয়ান সাগর থেকে প্রায় ১০০০ মাইল দূরের সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের অবস্থানে ২৬টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল রাশিয়া। সে সময় রাশিয়ার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে অবাক বিস্ময়ে কেঁপে উঠেছিল পশ্চিমা বিশ্ব। এবার ভূমধ্যসাগর থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও দূরপাল্লার বোমারু বিমান ব্যবহারে নড়েচড়ে বসেছে আমেরিকা। রুশ এসব অত্যাধুনিক বিমান শক্তি ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রে শুধু অবাকই হচ্ছে না মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্ব; বরং রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন যে কোমর বেধে সিরিয়া যুদ্ধে নেমেছেন সে সম্পর্কে তারা নিশ্চিত হচ্ছেন এবং নতুন নতুন ধারণা পাচ্ছেন। কৌশলগত বিমান ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় সন্ত্রাসীদের মোট ৫৮টি কমান্ড সেন্টার, ৪১টি অস্ত্র ও গোলাবারুদের ডিপো এবং ১৭টি শক্তিশালী দুর্গ ধ্বংস হয়।  

৩ ফিল্ড কমান্ডার নিহত: রাশিয়ার বিমান হামলায় উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএস’র মাঠ পর্যায়ের তিন কমান্ডার নিহত হয়েছে। সন্ত্রাসীরা তাদের এ ক্ষতির কথা স্বীকার করেছে বলে রাশিয়ার জেনারেল স্টাফের মুখপাত্র কর্নেল জেনারেল আন্দ্রেই কারতাপোলভ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। তিনি জানান, আলেপ্পোর কাছে নিহত এ তিন ফিল্ড কমান্ডার হচ্ছে- আবু নুরুল আব্বাসি, মুহাম্মাদ ইবনে খাইরাত এবং আল-ওকাব। এছাড়া, বিমান হামলায় আহমাদ জিয়া নামে এক কমান্ডার নিহত হয়েছে। এর পাশাপাশি আবু বকর নামে আরেক সন্ত্রাসী কমান্ডার নিহত হলে তাকে বুধবার দাফন করা হয়েছে। রুশ বিমান হামলায় সন্ত্রাসীরা এ পর্যন্ত বহু জনশক্তি হারিয়েছে।

লাশ ভাসানো হচ্ছে স্যুয়ারেজ লাইনে: জেনারেল কারতাপোলভ জানিয়েছেন, বিমান হামলায় হতাহতদের বিষয়টি গোপন রাখতে নিহতদের সবাইকে মুসলিম কায়দায় দাফন করা হচ্ছে না বরং অনেককে স্যুয়ারেজ লাইনে ভাসিয়ে দিচ্ছে সন্ত্রাসীরা। বুধবার রাশিয়ার বিমান বাহিনী একদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হামলা চালিয়েছে। এ দিন ২০৬টি লক্ষ্য বস্তুতে হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার এ কর্মকর্তা। রুশ বিমান হামলায় হোমস প্রদেশে আইএস সন্ত্রাসীদের ইউনিটগুলো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। একইভাবে বৃহস্পতিবার রুশ বিমানগুলো ৯৮টি অভিযানে ১৯০টি সন্ত্রাসী লক্ষ্য বস্তু ধ্বংস করে।

সন্ত্রাসীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা: যুদ্ধের বর্তমান পর্যায়ে এসে সন্ত্রাসীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেনারেল কারতপোলভ। তিনি জানান, সন্ত্রাসীদের কয়েকটি ইউনিটে সিনিয়র কমান্ডারদের নির্দেশ অমান্য করার ঘটনা ঘটেছে। সিনিয়র কমান্ডার নির্দেশ দেয়ার পরও সে কমান্ড মান্য করে নি আবু হুসান নামে পরিচিত এক ইউনিট কমান্ডার। তেলবিসা গ্রামের দিকে তার ইউনিটকে মুভ করার কথা বলা হয়েছল কিন্তু আবু হুসান সে নির্দেশ অমান্য করেছে। একইভাবে নির্দেশ অমান্য করার ঘটনা ঘটেছে আন-নুসরা ফ্রন্টের সন্ত্রাসীদের মধ্যে। আন-নুসরার কমান্ডার আবু মুসাব আস-সুফরিকে দেইর হান্না নামে একটি গ্রামে অবস্থিত সরকারি সেনা ইউনিট ধ্বংসের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল কিন্তু আবু মুসাব সে নির্দেশ পালন করে নি।

৫০০ তেলবাহী ট্রাক ধ্বংস: রাশিয়ার বিমান হামলায় উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএস’র ৫০০ তেলবাহী ট্রাক ধ্বংস হয়েছে। এসব ট্রাক সিরিয়া থেকে তেল নিয়ে ইরাকে যাচ্ছিল। জেনারেল আন্দ্রেই কারতাপোলভ জানান, গত কয়েক বছর ধরে সন্ত্রাসীরা ট্রাক বহরের মাধ্যমে কথিত তেলের ‘পাইপলাইন’ সৃষ্টি করেছে। সন্ত্রাসীরা এভাবে লাখ লাখ টন তেল পাচার করছে এবং এই তেল বিক্রির অর্থ হচ্ছে তাদের সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস। কিন্তু রাশিয়ার বিমান হামলার কারণে সন্ত্রাসীগোষ্ঠী আইএস’র তেল পাচার করার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাবে।

ফ্রান্সের জন্যই পশ্চিমাদের যত অনুভূতি?: ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে চলছে দুনিয়াজুড়ে তোলপাড়। পশ্চিমা জগতে যেন শোকের মাতম চলছে। এ বিষয়ে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ইতালির টেলিভিশন চ্যানেল রাই উনো-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “গত পাঁচ বছর ধরে সিরিয়ার জনগণ এ ধরনের সন্ত্রাসবাদের শিকার। আমরা ফ্রান্সের কষ্টটা অনুভব করি, যেমন অনুভব করি লেবাননের জনগণের কষ্ট। একইভাবে রুশ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর দেশটির জনগণের দুঃখটাও অনুভব করি। কিন্তু বিশ্ব বিশেষ করে পশ্চিমারা কী এসব দেশের জনগণের জন্য কোনো দুঃখ অনুভব করে নাকি শুধুমাত্র ফ্রান্সের জন্যই তাদের সব অনুভূতি?” প্যারিস হামলার কথা উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট আসাদ সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে পশ্চিমাদের দ্বৈতনীতির কথাও তুলে ধরেছেন। আসাদের এ বক্তব্যের রেশ ধরে নিশ্চয় বলা যায়- সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রুশ হামলা শুরু হলে আমেরিকা ও ফ্রান্স একসঙ্গে একসুরে তার বিরোধিতা করেছিল। শুধু তাই নয়, এ দুটি দেশ প্রকাশ্যে বলেছিল-বিমান অভিযান শুরুর জন্য রাশিয়াকে পরিণতি ভোগ করতে হবে। এখন সেই ফ্রান্স সিরিয়ায় আইএস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করেছে। প্রশ্ন হচ্ছে- কেন তখন বিরোধিতা আর এখন কেন হামলা? তাহলে নিজের ‘ঘাড়ে কোপ’ না পড়া পর্যন্ত কী আইএস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রকৃত লড়াইয়ে কেউ অংশ নেবে না?

সন্ত্রাসীরাই সমধানের পথে বাধা: সিরিয়ায় রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ১৪ নভেম্বর ভিয়েনা বৈঠকের পর এ চেষ্টা জোরদার হয়েছে। ভিয়েনার সর্বশেষ বৈঠকে বলা হয়েছে- ছয় মাসের মধ্যে সিরিয়ায় অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হবে আর ১৮ মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ পর্যায়ে আমেরিকা, সৌদি আরব, তুরস্ক ও কাতার দাবি জোরদার করেছে যে, প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদ সেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তাদের এ দাবি কতটা যৌক্তিক? আসাদ তো সিরিয়ার নাগরিক এবং তিনি বর্তমান বৈধ প্রেসিডেন্ট। তাহলে কেন তিনি অংশ নিতে পারবেন না দেশের নির্বাচনে? তাহলে কী আমেরিকা ও তার মিত্ররা জেনে গেছে যে, বাশার আসাদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তাদের পছন্দের প্রার্থী পাস করতে পারবেন না? এর পাশাপাশি আরো প্রশ্ন রয়েছে যে, সিরিয়ার সন্ত্রাসীদেরকে সমূলে উৎপাটন না করলে কী দেশটিতে শান্তি ফিরে আসবে। প্রেসিডেন্ট আসাদ যদি নির্বাচনে অংয়শ নেন আর আবার নির্বাচিত হন তাহলে কী সন্ত্রাসীরা ও তাদের পৃষ্ঠপোষকেরা অস্ত্র ফেলে আসাদ সরকারকে মেনে নেবে? প্রেসিডেন্ট আসাদ নিজেই বলেছেন, সিরিয়ায় তৎপর বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা হচ্ছে শান্তির পথে প্রধান বাধা। যখন বছরের পর বছর ধরে সন্ত্রাসীরা তৎপর রয়েছে তখন সেই সন্ত্রাসীদের বিনাশ না করা পর্যন্ত রাজনৈতিকভাবে কিছুই অর্জন করা সম্ভব নয়।

শক্ত অবস্থানে ইরান ও রাশিয়া: সিরিয়া নিয়ে যখন রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সুন্দরভাবে এগিয়ে যাওয়ার কথা তখন প্রেসিডেন্ট আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিষয়ে মার্কিন সরকার ও তার মিত্রদের চাপ বাড়ছে। এ অবস্থায় আসাদের প্রধান মিত্র ইরান ও রাশিয়া শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছে। ইরানের অন্যতম উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান বলেছেন, সিরিয়ার ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাশার আল-আসাদ অংশ নেয়ার অধিকার রাখেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, সিরিয়ার জনগণই ভোটের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যত নিয়ে শেষ কথা বলবে; অন্য কেউ নয়। তিনি বলেন, বাশার আসাদসহ সিরিয়ার যেকোনো যোগ্য ব্যক্তি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার রাখেন এবং সেখানে তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন দেশটির জনগণ। এছাড়া, সিরিয়ায় রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে গত ১৪ নভেম্বর থেকে ভিয়েনায় যে আলোচনা শুরু হয়েছে তা কেবল তখনই কার্যকর হতে পারে যখন দেশটিতে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন হবে। তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জোরালো ও আন্তরিক লড়াই না করলে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ফলপ্রসু হবে না। ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে- নির্বাচন হলে তাতে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এর ভিন্নতা হলে ইরান তা মানবে না।

অন্যদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়ার বিষয়ে যারা আশা করছেন তারা ভুল হিসাব করছেন। আসাদের প্রতি জনগণের সমর্থন রয়েছে এবং এর অর্থই হচ্ছে তাকে বাদ দিয়ে দেশটিতে কোনো শান্তি আসবে না; তাকে বাদ দিয়ে কোনো শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভবও নয়। ল্যাভরভ বলেন, পশ্চিমা যেসব বন্ধু এবং আরব অঞ্চলের কিছু দেশ যারা আশা করছে যে, সিরিয়ার জনগণ জেগে উঠবে এবং আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেবে; সত্যি কথা হচ্ছে তাদের সে আশা কখনো আলোর মুখ দেখবে না। আসাদের প্রতি জনগণের এই সমর্থনের অর্থই হচ্ছে- আসাদ দেশটির জনগণের বিরাট একটা অংশের স্বার্থের প্রতীক। সেক্ষেত্রে তার অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো শান্তিপূর্ণ সমাধান হতে পারে না।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট আসাদ ক্ষমতায় থাকলে দেশটিতে গৃহযুদ্ধের অবসান হবে বলে কোনো সম্ভাবনা তিনি দেখেন না। মূলত ওবামার এ কথার জবাব দিয়ছেন ল্যাভরভ। তিনি এও বলেছেন, সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থান সম্পর্কে বিশ্বের নেতারা দিন দিন সুস্পষ্ট ধারণা পাচ্ছেন। এর বিপরীতে মার্কিন অবস্থানও পরিষ্কার হচ্ছে। ল্যাভরভ জানিয়েছেন, ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে হামলার পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি সিরিয়ায় আইএস’র বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা শুরুর আহ্বান জানান। ফলে সিরিয়ায় আইএস বিরোধী লড়াইয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে জোট বাধার সম্ভাবনা রয়েছে। সিরিয়ায় আইএস সন্ত্রাসীদের হামলার কারণে এর আগে ফ্রান্স ও দীর্ঘদিনের শত্রু তুরস্ক আসাদকে আইএস’র জন্য “ম্যাগনেট” বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। এর জবাবে ল্যাভরভ বলেছেন- ফ্রান্স, মিশর, লেবানন ও তুরস্কও তো তাহলে আইএস’র জন্য ম্যাগনেট। কারণ উল্লেখিত চারটি দেশের সবগুলোতেই আইএস সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক; রেডিও তেহরান।

এমআর