পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরীফ কট্টর ৬ সন্ত্রাসীর মৃত্যুদণ্ডে সই করেছেন। ১৬ ডিসেম্বর পেশোয়ারের আর্মি পাবলিক স্কুলে জঙ্গি হামলায় ১৪১ জন নিহত হওয়ার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানে প্রাণদণ্ড স্থগিত রাখার বিষয়টি তুলে নেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। তারপরই সই করা হলো এ দণ্ডাদেশ।

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সামরিক আদালত এই ৬ ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। অবশ্য বিবৃতিতে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

কিন্তু পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ এবং সেনাসদর দফতরের হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল এ ৬ ব্যক্তি।

রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে আজ শুক্রবার রাত ৩ টায় এ ৬ ব্যক্তির প্রাণদণ্ড কার্যকর করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদেরকে এরই মধ্যে কারাগারে নিয়ে আসা হয়েছে। সামরিক বাহিনীর একটি টিম কারাগারটিও পরির্দশন করেছে।

এদিকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটির সব প্রদেশে প্রাণদণ্ডপ্রাপ্ত ৬৩ জনের তালিকা পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে পাঠিয়েছে। সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আইনে এ সব আসামিকে প্রাণদণ্ড দেয়া হয়েছে এবং তাদের শাস্তি কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এ ছাড়া এরই মধ্যে প্রায় ৪০০ প্রাণভিক্ষার আবেদন খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন উপ-সচিব (আইন)। সোমবারের মধ্যে এ কাজ শেষ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ বা আসিফ আলী জারদারি ২০০৭ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে এ সব আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলেন।

এদিকে খাইবার পাকতুনখোয়া প্রদেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক প্রাণদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিদের আত্মীয়রা তাদের সঙ্গে দেখা করতে শুরু করেছেন। প্রাণদণ্ডের কার্যকর করার ওপর থেকে বিধি নিষেধ তুলে নেয়ার পর তারা দেখা করতে শুরু করেন। এ প্রদেশের বিভিন্ন কারাগারে প্রাণদণ্ডপ্রাপ্ত প্রায় ৩০০ ব্যক্তি রয়েছে।

দীর্ঘদিন ব্যবহৃত না হওয়ার প্রেক্ষিতে এ প্রদেশের কারাগারগুলোর ফাঁসিকাষ্ঠ মেরামত শুরু হয়েছে। পেশোয়ারের কেন্দ্রীয় কারাগারের চিকিৎসক ও ম্যাজিস্ট্রেটদের একটি তালিকাও তৈরি করা হয়েছে।

মনে করা হচ্ছে এ কারাগারেই প্রথম প্রাণদণ্ড কার্যকর করা হবে। পরে বাকি কারাগারগুলো একই পথ অনুসরণ করবে।

জেএ