চীনের উহান শহর থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বর্তমানে সবচেয়ে ভয়বহ আকার ধারণ করেছে ইতালিতে। দেশটির শহর লম্বার্ডিয়া যেন মৃত্যুপুরী।
ইতালিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মারা যাওয়া আড়াই হাজারের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি লম্বার্ডিয়া অঞ্চলের।
মিলান আর লম্বার্ডিয়ার হাসপাতালগুলোর মর্গেও লাশ রাখার জায়গা নেই। স্বজনরা মৃতদের শেষবারের মতো দেখতেও পারছেন না। সুযোগ নেই শেষ শ্রদ্ধা জানাতে কবরস্থানগুলোতে যাওয়ার। এমন অবস্থায় হতভম্ব ইতালিয়রা।
দেশটিতে নতুন করে ৩৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এনিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ৫০৩ জনে দাঁড়ালো। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩১ হাজার ৫০৯ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৯৪১ জন। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৫২৬ জন। ইউরোপের আরেক দেশ স্পেনেও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে করোনা। দেশটিতে নতুন করে ১৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে এখনো পর্যন্ত ৫৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। নতুন করে এক হাজার ৮৮৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১১ হাজার ৮২৬ জন। আর সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ২৮ জন।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ১১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর জার্মানে ২৬ জন, ফ্রান্সে ১৭৫ জন, ইংল্যান্ডে ৭১ জন, নেদারল্যান্ডে ৪৩ জন, সুইজারল্যান্ডে ২৭ জন, বেলজিয়ামে ১০ জন, সুইডেন আট জন, অস্ট্রিয়া চার জন, নরওয়ে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানে নতুন করে ১৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে দেশটিতে মোট ৯৮৮ জনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। এক হাজার ১৭৮ জন নতুন করে আক্রান্ত হওয়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৬ হাজার ৫০৬ জনে পৌঁছেছে।
এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় ৮৪ জন, জাপানে ২৯ জন, ফিলিপাইনে ১৪ জন, ইরাকে ১১ জন, কানাডায় আট জন, ইন্দোনেশিয়ায় সাত জনের মৃত্যু হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর ডিসেম্বরের শেষদিন চীনের উহানে শনাক্ত হয়েছিল প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস। প্রায় তিন মাস চীনে তাণ্ডব চালিয়েছে, এখন গোটা বিশ্বেই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে এই মহামারি।
ইতোমধ্যেই বিশ্বের অন্তত ১৬৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। এখন পর্যন্ত এতে মারা গেছেন ৭ হাজার ৯৬৫ জন, আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৯৮ হাজার ১২৯ জন।
এখনও করোনায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা এর উৎস দেশ চীনে। দেশটিতে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৩ হাজার ২২৬ জন। আর আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৮০ হাজার ৮৮১ জন।
এমবি





