বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ফিলিস্তিনের কূটনীতিক মিশনের কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়া হয়েছে। ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে ফিলিস্তিনের ওপর চাপ দিতে সোমবার ওই মিশন বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।

গেল ডিসেম্বরে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতি দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

ওয়াশিংটনে ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) মিশনের প্রধান হুসাম জমলুত এক ফেসবুক ভিডিওতে বলেন, আজ (বৃহস্পতিবার) কার্যক্রম স্থগিত করার শেষদিন।

ফিলিস্তিনি মিশন বন্ধ করে দিতে মার্কিন পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে জমলুত এটিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক এবং প্রতিশোধপরায়ণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন আমাদের দুটো অপশন দেয়: হয় তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করতে হবে অথবা একটি জাতি হিসেবে আমাদের অধিকার হারাতে হবে।

জমলুত বলেন, আমাদের প্রেসিডেন্ট, নেতৃত্ব এবং ফিলিস্তিনের মানুষজন আমাদের অধিকারকে বেছে নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনের মানুষ ‘বর্তমান অবস্থা নিয়ে চরমভাবে ভারাক্রান্ত’।

ফেসবুকের ভিডিও বার্তায় ‘গ্রেট আমেরিকান জনগণের’ উদ্দেশে জমলুত বলেন, আমি আশা করি খুব শিগগিরই ফিলিস্তিনি ও মার্কিনিদের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতীক এবং প্রতিফলন ফিরে আসবে।

এদিকে ওই মিশন বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশের আগে যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনিদের জন্য ২০০ মিলিয়নের বেশি অর্থ সহায়তা বন্ধ করে। এছাড়া জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)-র তহবিল বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে এ সিদ্ধান্তকে ইসরাইল-ফিলিস্তিনের মধ্যে দ্বি-রাষ্ট্রিক সমাধান বাস্তবায়নের পথে অন্তরায় হিসেবে দেখছে জার্মানি। শুক্রবার (১৪ মে) মার্কিন সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জার্মানির অবস্থান তুলে ধরেন।

জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া আদেবার বলেছেন, ‘বর্তমানে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে যে মাত্রার কম যোগাযোগ দেখছি আমরা, তাতে এই একক মার্কিন সিদ্ধান্তে দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়বে। সেক্ষেত্রে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের সমাধানে দ্বি-রাষ্ট্রিক প্রস্তাব বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা দুরূহ হয়ে পড়বে।’

জেড