যেখান থেকে আসা, ঠিক সেখানেই ফিরে যাওয়া! প্রিয় মানুষদের বিদায় বলার পর হয়তো এ কথাটিই সান্ত্বনা হয়ে থাকে, ঘুরেফিরে নীড়েই ঠাঁই মেলে সবার।

কিংবদন্তি মোহাম্মদ আলীর ক্ষেত্রে ঠিক তা-ই হচ্ছে, নীড়ে ফিরছেন তিনি। জন্মস্থান লুইভিলেই আগামী শুক্রবার সমাহিত হবেন এই মহানায়ক।

গত শুক্রবার না-ফেরার দেশে চলে গেছেন মোহাম্মদ আলী, দ্য গ্রেটেস্ট। শুধু রিংয়ে নেমে যা করেছেন সেটিই কিংবদন্তি হওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল।

কিন্তু বক্সিংয়ের মতো একটি খেলাকে শিল্পে রূপ দিয়েছেন, যুদ্ধ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, মানবতার পক্ষে লড়ে মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। জীবনভর বিশ্বের মানুষকে অন্যায় ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়ার প্রেরণা ও সাহস জুগিয়েছেন।

প্রেরণাদায়ী এই মানুষটিই জীবনের একটি বড় সময় পার্কিনসন্স রোগে ভুগেছেন। তবু মৃত্যুর সময় কষ্ট নিয়ে নয়, পরিবারের সবাইকে পাশে নিয়েই আনন্দের সঙ্গে বিদায় নিয়েছেন তিনি।

তাঁর কন্যা হানা আলীর চোখে এটিই সান্ত্বনা, ‘আমরা অনেক কষ্ট পাচ্ছি। কিন্তু বাবার জন্য খুশি, তিনি এখন মুক্ত। আমরা সবাই তাঁর পাশে ছিলাম।

তাঁর হাত ধরে ইসলামি দোয়া পড়েছি। অন্য সব অঙ্গ থেমে যাওয়ার পর আরও ৩০ মিনিট তাঁর হৃৎকম্প শুনেছি। এতেই বোঝা গেছে কী তেজ আর ইচ্ছাশক্তি নিয়ে তিনি বেঁচে ছিলেন।’

পরিবারের সবাই তাঁকে মৃত্যুশয্যায় বিদায় বলেছেন। অন্য নিকটাত্মীয়রাও যাতে নিভৃতে তাঁকে বিদায় জানাতে পারেন সে জন্য আগামী বৃহস্পতিবার পারিবারিকভাবে একটি বিশেষ শেষকৃত্যের আয়োজন হবে।

কিন্তু একজন ‘মোহাম্মদ আলী’ তো শুধু তাঁর পরিবারের নন, সারা বিশ্বের। সে জন্য তাঁর অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগীকেও বিদায় বলার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। আলী পরিবারের মুখপাত্র বব গানেল জানিয়েছেন, কিংবদন্তি বক্সার নিজেই নাকি স্মরণসভার পরিকল্পনা করে গেছেন।

সেই অনুযায়ী আগামী শুক্রবার ১০ জুন কেন্টাকির লুইভিলের কেএফসি ইয়াম সেন্টারে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হবে। আন্তধর্মীয় এই শেষকৃত্যানুষ্ঠানে মুসলিম রীতি মেনে একজন ইমামও থাকবেন।

স্মরণসভায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, কমেডিয়ান বিলি ক্রিস্টাল ও ক্রীড়া সাংবাদিক ব্রায়ান্ট গামবেলের বক্তৃতা দেওয়ার কথা আছে।

এরপর যেখানে বেড়ে উঠেছিলেন এই কিংবদন্তি, সেই লুইভিলের রাস্তায় মোহাম্মদ আলী সেন্টারের পাশ দিয়ে মোহাম্মদ আলী নামাঙ্কিত ব্যুলেভার্ড ঘুরিয়ে আনা হবে তাঁকে।

তাঁকে শেষবারের মতো সম্মান জানানোর সুযোগ করে দেওয়া হবে ভক্তদের। সব আনুষ্ঠানিকতার শেষ হবে কেভহিল সমাধিস্থলে, সেখানেই দাফন করা হবে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদকে।

এসএম