সুইস ব্যাংকে ভারতীয়দের আমানতের পরিমাণ ২০১৩ সালে ১৪ হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে। সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকিং ব্যবস্থার গোপনীয়তার বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বিরোধিতার পরও ভারতীয়দের অর্থ গচ্ছিত রাখার পরিমাণ বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে ভারতীয়দের অর্থ আমানতের পরিমাণ গত বছরে ৪০ শতাংশ বেড়ে ১৪২ কোটি সুইস ফ্রাঙ্ক থেকে ২০০ কোটি সুইস ফ্রাঙ্ক হয়েছে। অবশ্য এর আগের বছর ২০১২ সালে ঠিক উল্টো চিত্র ছিল। ওই বছর সুইস ব্যাংকগুলোতে তাদের অর্থ জমার পরিমাণ এক-তৃতীয়াংশ কমেছিল।

ভারতীয়দের অঢেল অর্থ সুইস ব্যাংকে গচ্ছিত রাখার তথ্য এমন এক সময়ে প্রকাশ করা হলো, যখন ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশ ব্যাংকগুলোর বিদেশি গ্রাহকদের তথ্য দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। যদিও সুইজারল্যান্ডের আইনপ্রণেতারা এর বিরোধিতা করছেন। অবৈধ অর্থ পাচারের পর তা গচ্ছিত রাখার জন্য নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচিত সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো। ভারতীয়দের কালো টাকা সুইজারল্যান্ডসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে পাচারের বিষয়ে অনুসন্ধানে দেশটির সরকার স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (এসআইটি) নামে একটি দল গঠন করেছে

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে সুইস ব্যাংকে ভারতীয়দের তহবিল প্রায় এক তৃতীয়াংশ কমে যায়, যদিও ২০১১ সালে তা বেড়ে গিয়েছিল। ২০০৬ সালে সুইস ব্যাংকে ভারতীয়দের জমা অর্থের পরিমাণ সর্বোচ্চে অর্থাৎ ৬.৫ বিলিয়ন সুইস ফ্র্যাঙ্কে পৌঁছে, পরে ২০১০ সালে তা অনেকটা কমে এসে হয় ৪বিলিয়ন।

দেখা গেছে, বর্তমানে সংস্থা ও ব্যক্তিগতভাবে ভারতীয়দের ১.৯৫ বিলিয়ন এবং বেনামে ৭৭.৩ মিলিয়ন সুইস ফ্র্যাঙ্ক রয়েছে সেখানে। এদিকে ভারত সহ বেশ কিছু দেশ সুইজারল্যান্ডের উপর চাপ বাড়াচ্ছে সুইস ব্যাংকের যাদের টাকা রয়েছে তাদের সম্পর্কে তথ্য দেয়ার জন্য। কারণ সেখান ভারতীয়দের কালো টাকা উদ্ধারের জন্য ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে ভারত।

অনুসন্ধানমূলক ওয়েবসাইট উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ ২০১১ সালের এপ্রিলে জানিয়েছিলেন, সুইস ব্যাংকগুলোতে ভারতীয় নাগরিকদের গচ্ছিত কালো টাকার পরিমাণ অন্য যে কোনো দেশের নাগরিকদের চেয়ে অনেক বেশি। সুইস ব্যাংকগুলোতে যারা অর্থ জমা রেখেছেন তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তার কাছে আছে দাবি করে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে অ্যাসাঞ্জ বলেন, বিশ্বের যে সব স্থানে সুইজারল্যান্ডের নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক আছে সে সব স্থানে ভারতীয় নাগরিকরা ব্যাপক পরিমাণে বিদেশি মুদ্রা গচ্ছিত রেখেছেন। তিনি বলেন, বিদেশে গচ্ছিত কালো টাকা উদ্ধারের জন্য ভারত সরকারের আরো কঠোর পদক্ষেপ নেয়া দরকার। সূত্র: আইআরআইবি

ঢাকা, ২০ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) //এমএ