ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে রোববার আঘাত হানে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হুদহুদ। এতে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে।

ঘুর্ণিঝড়ে কমপক্ষে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের তিনজন অন্ধপ্রদেশ রাজ্যে এবং অপর তিন জন উড়িষ্যায় প্রাণ হারিয়েছেন। ঘুর্নিঝড়ের পূর্বাভাস পেয়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ লোককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় ১৯০ কিলোমিটার বেগে ঘূর্ণিঝড় ‘হুদহুদ’ আঘাত হানে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম ও শ্রীকাকুলামে। হুদহুদের কবলে পড়ে এ দিন রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। প্রবল বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়ায় বিশাখাপত্তনমে গাছ চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। অপরদিকে, শ্রীকাকুলামে বাড়ির দেওয়াল ভেঙে মৃত্যু হয় এক জনের। উড়িষ্যাতেও মৃত্যু হয় তিন জনের।

খবরে বলা হয়, এ দিন ঝড়ের কবল থেকে মাছ ধরার নৌকা বাঁচাতে গিয়ে পুরীতে এক মৎস্যজীবীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার মৃত্যু হয় এক কিশোরীর।

অন্ধ্রপ্রদেশের তিনটি উপকূলীয় জেলায় প্রবল শক্তিতে এ দিন আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় হুদহুদ। একমাত্র পূর্ব গোদাবরী ছাড়া বিশাখাপত্তনম, ভিজিয়ানাগ্রাম ও শ্রীকাকুলামে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। উপকূলীয় ওই চার জেলার প্রায় তিন লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার ওই চার জেলার ৩৫৬টি গ্রামকে ঘূর্ণিঝড়প্রবণ বলে আগেই চিহ্নিত করেছিল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোট তিনশোটি ত্রাণ শিবির খোলা হয়। চার জেলায় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ১৯টি দল মোতায়েন করা হয়। শ্রীকাকুলাম ও বিশাখাপত্তনমে উদ্ধারকারী নৌকার ব্যবস্থাও করা হয়। তৈরি রাখা হয় বায়ুসেনার ছ’টি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার।

হুদহুদ-এর প্রভাবে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয় বিশাখাপত্তনম ও শ্রীকাকুলামে। প্রবল গতিতে ঝড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টিতে সব লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। জায়গায় জায়গায় উপড়ে যায় বিদ্যুতের খুঁটি ও বড় বড় গাছ। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে টেলিযোগাযোগও। রাজ্য সরকারের তরফে বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্যবাসীকে ঘরে থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়।

হুদহুদ-এর গতিবিধি লক্ষ্য করে এ দিন সকাল সোয়া দশটা নাগাদ আবহাওয়া দফতরের প্রধান কে সীতারাম জানিয়েছিলেন বিশাখাপত্তনম থেকে ৪৫-৫০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। সেটি উত্তর-পশ্চিম দিকে প্রবল বেগে ধেয়ে আসছে। এ দিন সকাল থেকেই বিশাখাপত্তনমে ঝড়ের আঁচ পড়তে শুরু করে। ঝড়ো হাওয়া আর সেই সঙ্গে প্রবল বৃষ্টিতে সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসও লক্ষ্য করা যায়।

অপরদিকে, উড়িষ্যাতেও হুদহুদ-এর প্রভাব পড়ে। সেখানে সকাল থেকে ঝড়ো হাওয়া ও প্রবল বৃষ্টি হয়। রাজ্যের সমুদ্র উপকূলবর্তী জেলা গঞ্জাম, গজপতি, কোরাপুট, পুরী, কালাহান্ডি ও রায়গডে হুদহুদ-এর তা-ব চলে। ভারী বৃষ্টি হয় মালকানিগিরি, কন্ধল এবং ফুলবনি জেলায়। উপকূলবর্তী ওই জেলাগুলি থেকে ৬৮ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। মোট ৬০৪টি আশ্রয় শিবিরের ব্যবস্থা করা হয়।

দিল্লীর আবহাওয়া দফতর জানায়, বিশাখাপত্তনম, ভিজিয়ানাগ্রাম, শ্রীকাকুলাম, পূর্ব ও পশ্চিম গোদাবরী জেলায় ঝড়ের তান্ডব চলে। তবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিশাখাপত্তনম। সন্ধেবেলার দিকে ঝড়ের গতি কমবে বলেও জানানো হয়। তবে আগামী ১৫ তারিখ পর্যন্ত বৃষ্টি হবে অন্ধ্রপ্রদেশ এবং উড়িষ্যায়। পাশাপাশি বৃষ্টি হবে ঝাড়খন্ড ছত্তীসগড়, পূর্ব মধ্যপ্রদেশ, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গেও।

পশ্চিমবঙ্গের আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে এ দিন জানানো হয়েছে, উপকূলবর্তী জেলা পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভারী মাত্রায় বৃষ্টি হবে। হালকা বৃষ্টি হবে রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও।

এসএমএ